খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১১ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের ব্যাংক খাত দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম, দুর্নীতি আর ঋণ খেলাপির অন্ধকার ছায়ায় জর্জরিত। এর ধাক্কা লেগেছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ গ্রাহকও। ঠিক এক বছর আগে দায়িত্ব নেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর পরিস্থিতি বদলাতে উদ্যোগ নিলে একের পর এক ভয়ংকর বাস্তবতা প্রকাশ্যে আসে।
গভর্নরের তত্ত্বাবধানে চিহ্নিত এক ডজন দুর্বল ব্যাংকের মধ্যে ইতিমধ্যেই সম্পদ মূল্যায়ন শেষ হয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল, ইউনিয়ন, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংকে। তদন্তে দেখা গেছে, এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৪৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন গভর্নর।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘এক সপ্তাহের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।’
তবে এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। গভর্নরের মতে, আরও অন্তত ২০টি ব্যাংকের ক্ষেত্রে একই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যার মধ্যে সরকারি ব্যাংকও রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রেও রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এ ব্যাংকের ৮২ শতাংশ শেয়ার দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রির চেষ্টা চলছে। বিক্রি সফল হলে, প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে পূরণ করা হবে ব্যাংকের আর্থিক ঘাটতি।
বর্তমানে দুর্বল কোনো ব্যাংক বন্ধ করার ইচ্ছা সরকারের নেই বলেও জানান আহসান এইচ মনসুর। বরং, সেগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
খবরওয়ালা।এন