হবিগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের কার্যকলাপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ধারালো অস্ত্রধারী কিশোররা প্রকাশ্যে মহড়া, ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত, মাদকসেবন, চুরি-ছিনতাই ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে। ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী এই কিশোরদের আচরণে অভিভাবক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ভীতি ও উদ্বেগ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে জেলার সর্বস্তরের মানুষ দাবি করছেন, কিশোর গ্যাং নির্মূলে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
অস্ত্রধারী মহড়া এবং জনপথে দাপট
শহরের বিভিন্ন এলাকায়—রাজনগর, মহিলা কলেজ, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়—২০ থেকে ২৫ জন কিশোর ধারালো চাপাতি ও চায়নিজ কুড়াল হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দেয়। একপর্যায়ে তারা এই মহড়ার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়। শহরতলীর ধুলিয়াখাল বিসিক শিল্পনগরী এলাকায়ও ১০–১২ জন কিশোর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেলে শোডাউন দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, কিশোররা উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্রী ও কর্মজীবী নারীরা ভীত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা কঠিন। এই সুযোগেই কিশোররা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাবও অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
সাম্প্রতিক ঘটনা
-
১ মার্চ: মোহনপুর বাইপাস সড়কে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষ অস্ত্রধারী মহড়া দেয়; ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং আতঙ্কের সৃষ্টি। পুলিশ ৯৯৯ কল পেয়ে তিন সদস্যকে আটক করে।
-
২৪ ফেব্রুয়ারি: বানিয়াচংয়ের যাত্রাপাশা গ্রামের আবু সুফি মো. গোলাম রহমান ও তাঁর ছেলে ধুলিয়াখালে মোটরসাইকেল ধাওয়া-পাল্টা ও নির্মম মারধরের শিকার।
-
১৬ জানুয়ারি: চুনারুঘাট উপজেলার মাজার মেলায় দোকানপাট ভাঙচুর ও দর্শনার্থীদের মারধর করে কিশোর গ্যাং; অন্তত ১০ জন আহত।
| তারিখ | স্থান/বন্দর | ঘটনা | আহত/গ্রেপ্তার সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| ১৬ জানুয়ারি | চুনারুঘাট, মাজার | দোকানপাট ভাঙচুর ও দর্শনার্থীদের মারধর | ১০ |
| ২৪ ফেব্রুয়ারি | ধুলিয়াখাল | ইজিবাইক ধাওয়া-পাল্টা ও মারধর | – |
| ১ মার্চ | মোহনপুর বাইপাস | অস্ত্রধারী মহড়া ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া | ৩ গ্রেপ্তার |
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন খাতুন জানান, “কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ রয়েছে। তাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
হবিগঞ্জ শিশু আদালতের পিপি হাফিজুল ইসলাম বলেন, “মা-বাবার খামখেয়ালিপনায় কিশোররা পড়ালেখা ছাড়ছে। রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত খারাপ সঙ্গের মধ্যে আড্ডা দেয়, যা তাদের অপরাধ প্রবণতা বাড়াচ্ছে।”
হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, “১৮ বছরের কম বয়সে আইনি বাধ্যবাধকতা কম থাকায় তারা নির্দ্বিধায় সিগারেট, মাদক, চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।”
জেলার সর্বস্তরের নাগরিক ও প্রশাসন মিলিতভাবে কিশোর গ্যাং নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সচেষ্ট।



