খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই মার্চ ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
গত সপ্তাহান্তে ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশ তেলের ধোঁয়ায় ঘনীভূত হয়ে পড়েছিল, যখন ইসরাইল তেল মজুত রাখার ডিপোগুলোতে বোমা নিক্ষেপ করেছিল। এর ফলে রাস্তাঘাট আগুনে আচ্ছন্ন হয় এবং বাতাসে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা লাখ লাখ নাগরিকের ফুসফুস ও গলায় জমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের দূষণ দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের অসুখ, ক্যান্সার ও অকালমৃত্যুর মতো জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে।
বিশ্লেষকরা তুলনা করেছেন ২০০১ সালের যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার পরকার কেসের সঙ্গে। ওই সময় প্রাথমিক হামলায় নিহত মানুষের সংখ্যা কম হলেও ধুলিকণা ও বিষাক্ত পদার্থের কারণে পরবর্তী বছরগুলোতে অনেকের মৃত্যু হয়। একই রকম ভয়াবহ প্রভাব ইরানে তৈরি হতে পারে।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানের লক্ষ্য শুধুমাত্র সামরিক ঘাঁটি নয়; বেসামরিক মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তেহরান ও দক্ষিণ লেবাননের বেসামরিক এলাকায় বোমা বর্ষণের কারণে একমাত্র এক সপ্তাহে লেবাননে ৭ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে এবং ৮৬ শিশুসহ প্রায় ৬০০ জন নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, তারা যুদ্ধের নিয়মকানুন উপেক্ষা করছে এবং বিমান ও ড্রোনের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই হস্তক্ষেপের পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থও রয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মতে, ভেনেজুয়েলা ও ইরান বিশ্বের তেলের মোট মজুতের ৩১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের তেলের বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে চায়।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের তথ্য দেওয়া হলো:
| দেশ/শহর | ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক সংখ্যা | নিহত (শিশু) | উচ্ছেদকৃত মানুষ | মূল প্রভাব |
|---|---|---|---|---|
| তেহরান, ইরান | লক্ষাধিক | অজানা | অজানা | বিষাক্ত ধোঁয়া, স্বাস্থ্য ঝুঁকি |
| দক্ষিণ লেবানন | প্রায় ৬০০ | ৮৬ | ৭ লাখ | আবাসন ধ্বংস, উদ্বাস্তু |
| গাজা | অজানা | অজানা | অজানা | চলমান যুদ্ধ, মানবিক সংকট |
বিশ্ব রাজনীতিতে এই সংঘাতের প্রভাবও চোখে পড়ার মতো। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া, উপসাগরীয় তেল ও গ্যাসের ওপর হামলা, এবং মার্কিন-ইরানি উত্তেজনা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করছে।
ইরানের নেতৃত্ব জানিয়েছে তারা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত রসদ রয়েছে। ইতিহাসে দেখা গেছে, ২০০৩ সালে ইরাকে যুদ্ধে কয়েক মাস পরও বিশাল ক্ষয়ক্ষতি চলতে থাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘাত শুধুমাত্র সামরিক নয়; এটি রাজনৈতিক প্রভাব ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের কৌশলও বটে। ইরানের নেতৃত্ব যুদ্ধ এড়ানোর চেয়ে অবস্থান দৃঢ় করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে: এই সংঘাত কতদূর বিস্তৃত হবে এবং এর জন্য আর কত মূল্য দিতে হবে।
এভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতিকে আরও গভীর করছে, যেখানে মানবিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ একত্রিত হয়ে পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
মন্তব্য