খেলাপি ঋণ ও ব্যাংকিং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে নতুন কড়াকড়ি ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ এবং অন্যান্য আর্থিক ঝুঁকি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে তদারকি জোরদার করছে। দেশের ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কার্যকর করতে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী, নিরীক্ষা বছরের নবম মাসের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এই নিয়ম ২০২৫ সালভিত্তিক এবং পরবর্তী সব প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের তদারকি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে সুপারভিশন কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন (Risk Based Supervision বা RBS) চালু করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংককে একভাবে দেখা হবে না; বরং যেসব ব্যাংকে ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে। এতে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা ও অনিয়ম আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন ব্যবস্থা ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা এবং ঋণ ঝুঁকি নিরীক্ষণকে আরও নিবিড় ও কার্যকরী করবে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ, দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিচে নতুন তদারকি ব্যবস্থার মূল দিকগুলি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয় বিবরণ
সার্কুলার প্রকাশের তারিখ ২ এপ্রিল ২০২৬
প্রযোজ্য বিধিমালা ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪
প্রতিবেদন সময়সীমা নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখ পর্যন্ত
অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন নিরীক্ষা বছরের নবম মাসভিত্তিক
সুপারভিশন কাঠামো ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন (RBS)
লক্ষ্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি
প্রভাব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ও দায়বদ্ধতা উন্নয়ন

নতুন ব্যবস্থায়, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোকে আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে খেলাপি ঋণ ও অনিয়ম শনাক্তকরণের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যাংকিং খাত কেবল খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং অর্থনীতিতে বিশ্বাসযোগ্যতা ও বিনিয়োগে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়ক হবে। প্রাথমিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা প্রয়োগের ফলে আগামী কয়েক বছরে দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা হ্রাস ও আর্থিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধি সম্ভব হবে।

সবমিলিয়ে, এই পদক্ষেপ কেবল নিয়মনীতি প্রয়োগ নয়, বরং বাংলাদেশের ব্যাংক খাতকে আরও শক্তিশালী, দায়বদ্ধ ও স্বচ্ছ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।