খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে বড় ধরনের আর্থিক পরিবর্তন এনেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি। আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে টুর্নামেন্টের মোট প্রাইজমানি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে এবারের আসরের মোট প্রাইজমানি দাঁড়িয়েছে ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০৭ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান। এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটকে আরও বাণিজ্যিকভাবে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৬ জুন ইংল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে মোট ১২টি দল—যা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্প্রসারিত ফরম্যাট। এর আগে ১০ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতো এই টুর্নামেন্ট। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে প্রতিযোগিতা আরও বিস্তৃত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করছে আইসিসি।
তবে মোট প্রাইজমানি বাড়লেও শীর্ষ দুই অবস্থানের অর্থ পুরস্কারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। চ্যাম্পিয়ন দল আগের মতোই পাবে ২৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা), আর রানার্সআপ দল পাবে ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার (প্রায় ১৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা)। অর্থাৎ শীর্ষ দুই দলের পুরস্কার আগের মতোই রাখা হয়েছে, যা বড় দলগুলোর জন্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়া দুই দলও আগের মতোই ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার করে পাবে। তবে টুর্নামেন্টের নিচের দিকের দলগুলোর জন্য একটি বড় স্বস্তির বিষয় হলো—প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী দল নিশ্চিতভাবে অন্তত ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা) করে পাবে, যা নারী ক্রিকেটারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।
নিচে প্রাইজমানির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| অবস্থান/ধাপ | প্রাইজমানি (মার্কিন ডলার) | আনুমানিক বাংলাদেশি টাকা |
|---|---|---|
| চ্যাম্পিয়ন | ২,৩৪০,০০০ | ২৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা |
| রানার্সআপ | ১,১৭০,০০০ | ১৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা |
| সেমিফাইনালিস্ট (২ দল) | ৬৭৫,০০০ করে | প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা |
| অংশগ্রহণকারী দল | ২৪৭,৫০০ করে | প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা |
| গ্রুপ পর্ব জয় | ৩১,১৫৪ করে (প্রতি জয়) | পরিবর্তনশীল |
গত আসরের তুলনায় এবারের প্রাইজমানি বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আগের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ছিল ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭ ডলার। এবারের বৃদ্ধি নারী ক্রিকেটের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়ারই ইঙ্গিত বহন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটারদের আর্থিক স্বীকৃতি আরও জোরদার করবে এবং ছোট দলগুলোর জন্যও বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকে আরও অর্থবহ করে তুলবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ক্রিকেট দেশগুলোর জন্য এটি একটি বড় উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলও (যার নেতৃত্বে আছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি) এই টুর্নামেন্ট থেকে অন্তত ৩ কোটি টাকার নিশ্চয়তা পাচ্ছে। এটি শুধু আর্থিক দিক থেকেই নয়, বরং নারী ক্রিকেটের পেশাদারিত্ব ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সব মিলিয়ে, আইসিসির এই নতুন প্রাইজমানি কাঠামো নারী ক্রিকেটকে আরও প্রতিযোগিতামূলক, আকর্ষণীয় এবং আর্থিকভাবে টেকসই করার পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।