রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬৮ রাউন্ড গুলিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ গুলির পাশাপাশি তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব কর্তৃপক্ষ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আলমগীর হোসেন (৫০), মো. সজিব (২৭), মো. অপু বেপারী (২৪), মো. খোকন (৫৬) এবং আশা আক্তার ঝর্ণা (২০)।
র্যাব-১০-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সদর কোম্পানির একটি বিশেষ দল নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য আসে যে, একটি সংঘবদ্ধ দল শুভাঢ্যা ইউনিয়নের পারগেন্ডারিয়া এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মগোপনে রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে র্যাবের একটি চৌকস দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন অবস্থান থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ ও আশপাশ তল্লাশি করে ৬৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, যারা অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ বা পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব।
নিচে গ্রেপ্তার ও জব্দকৃত সামগ্রীর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| গ্রেপ্তার ব্যক্তি |
৫ জন (৪ জন পুরুষ, ১ জন নারী) |
| নামসমূহ |
মো. আলমগীর হোসেন, মো. সজিব, মো. অপু বেপারী, মো. খোকন, আশা আক্তার ঝর্ণা |
| বয়সসীমা |
২০ থেকে ৫৬ বছর |
| উদ্ধারকৃত গুলি |
৬৮ রাউন্ড |
| জব্দকৃত অন্যান্য সামগ্রী |
৩টি মোবাইল ফোন |
| অভিযান স্থান |
পারগেন্ডারিয়া, শুভাঢ্যা ইউনিয়ন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ |
| অভিযান সময় |
২৮ এপ্রিল, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। এমন অভিযান অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র ভাঙার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের এই অভিযানও তারই অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
বর্তমানে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক শনাক্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য