খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুন ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
দক্ষিণী চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের মানসিকতা ও তারকাখ্যাতির প্রভাব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, রাতারাতি অভাবনীয় সাফল্য অর্জনের পর তিনি একসময় ‘খ্যাতির নেশায় আসক্ত’ এবং বেশ ‘অহংকারী’ হয়ে উঠেছিলেন। নিজের জীবনের অতীত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, আকস্মিক বিপুল সাফল্য অনেক সময় একজন মানুষকে অহংকারী করে তুলতে পারে, যা তাঁর ক্ষেত্রেও ঘটেছিল।
সামান্থা জানান, একটি ছোট শহর থেকে উঠে আসা সাধারণ মেয়ের জন্য হঠাৎ করে এত বিপুল পরিমাণ খ্যাতি, জনপ্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পাওয়া ছিল এক অভাবনীয় ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে তাঁর সিনেমা দেখতেন, তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেন এবং চারদিকে শুধু তাঁকে নিয়েই আলোচনা হতো। এই পরিস্থিতি তাঁকে খ্যাতির মোহে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল।
ক্যারিয়ারের সেই স্বর্ণালী সময়ে সামান্থা বছরে প্রায় পাঁচটি পর্যন্ত সিনেমা করতেন এবং তাঁর অভিনীত সব সিনেমাই বক্স অফিসে ব্যবসায়িক সাফল্য বা ‘সুপার হিট’ তকমা লাভ করত। উপর্যুপরি এই বাণিজ্যিক সাফল্যের কারণে বলিউডের (বলি) চলচ্চিত্র নির্মাতারাও তাঁকে অত্যন্ত লাভজনক বা ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন।
টানা সাফল্যের এই ধারা সামান্থার মনে এক ধরনের মানসিক পরিবর্তন ও অহংকারের জন্ম দিয়েছিল। তিনি মনে করতে শুরু করেছিলেন যে, এই খ্যাতির পথ কখনো শেষ হবে না এবং তিনি চিরকাল এই সাফল্যের জোয়ারেই ভেসে চলবেন। তবে এই বিপুল সাফল্য ও নির্মাতাদের প্রত্যাশার কারণে তিনি ক্যারিয়ারে এক তীব্র বাড়তি মানসিক চাপও অনুভব করতেন।
বছর কয়েক আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সামান্থা রুথ প্রভু অভিনয় জগত থেকে বাধ্যতামূলক বিরতি নিতে বাধ্য হন। এই বিরতিই তাঁর জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে দেয়। সামান্থা বলেন, একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে তিনি এতটাই অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন যে, সাফল্যের শেষটা তিনি কখনো দেখতে চাননি। কিন্তু অসুস্থতার কারণে যখন তিনি কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে সরতে বাধ্য হন, তখন তাঁর সেই ভুল ধারণা এবং অহংকার ভেঙে যায়। এই বাধ্যতামূলক বিরতির পর তিনি তাঁর জীবন ও যাপন পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন এবং বর্তমানে তিনি এই পরিবর্তিত বাস্তবসম্মত চিন্তাভাবনা নিয়েই জীবন পরিচালনা করছেন।
নিচে অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর ক্যারিয়ারের অতীত পরিস্থিতি এবং তাঁর আসন্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের তথ্য একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | অতীত পরিস্থিতি ও মানসিকতা | বর্তমান ও আসন্ন প্রজেক্টের তথ্য |
| বার্ষিক কাজের সংখ্যা | বছরে প্রায় ৫টি সিনেমা (সবগুলোই সুপার হিট) | কাজের সংখ্যা কমিয়ে চিন্তা-ভাবনায় পরিবর্তন এনেছেন |
| চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দৃষ্টিভঙ্গি | সামান্থাকে ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’ মনে করতেন | প্রযোজক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন |
| মানসিক অবস্থা | খ্যাতির নেশায় আসক্ত ও অহংকারী মনোভাব | চোট/অসুস্থতার বিরতির পর বাস্তবসম্মত জীবনবোধ |
| আসন্ন সিনেমা | — | ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ (মুক্তি: ১৯ জুন, অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাও তাঁর) |
| আসন্ন ওয়েব সিরিজ | — | ‘রক্ত ব্রহ্মাণ্ড’ (নির্মাতা জুটি রাজ ও ডিকের নতুন সিরিজ) |
অসুস্থতাজনিত বিরতি সামান্থা রুথ প্রভুর জীবনে এক বড় শিক্ষণীয় অধ্যায় হিসেবে কাজ করেছে। অহংকার ও খ্যাতির মোহ কাটিয়ে তিনি এখন নতুন উদ্যমে অভিনয়ে ফিরেছেন। আগামী ১৯ জুন তাঁর প্রযোজিত ও অভিনীত ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ সিনেমাটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে এবং পাশাপাশি রাজ ও ডিকের ‘রক্ত ব্রহ্মাণ্ড’ সিরিজেও দর্শকেরা নতুন এক সামান্থাকে দেখতে পাবেন।
মন্তব্য