নেত্রকোনায় বজ্রপাতে মাছ ধরতে গিয়ে তিনজনের মৃত্যু ঘটনা
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
নেত্রকোনার মদন ও কেন্দুয়া উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থানে জলাশয়ে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের জয়পাশা গ্রামের রাজীব মিয়া (২৫), কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের দেখলেই পশ্চিম পাড়া গ্রামের শামসুল হুদা (৪৯) এবং ডাউকি গ্রামের আশরাফুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল পৌনে ছয়টার দিকে রাজীব মিয়া তার বাড়ির সামনে গণেশের হাওরে মাছ ধরছিলেন। তিনি পেশায় ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন। ওই সময় আকাশে মেঘাচ্ছন্ন অবস্থা ছিল এবং বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন জানান, বজ্রপাতের তীব্রতায় তার শরীর ঝলসে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
অন্যদিকে, একই সময়ে কেন্দুয়া উপজেলার শামসুল হুদা বাড়ির পাশে মুরাইল বিলের দেওয়াল খালে মাছ ধরতে যান। বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় লোকজন তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে পরিবারের লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
এছাড়া ডাউকি গ্রামের আশরাফুল ইসলামও গ্রামের পার্শ্ববর্তী সান্দিকোনা খালের পাশে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান বলে স্থানীয়রা জানান। একই সময় এলাকায় বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ আবহাওয়া বিরাজ করছিল।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাগুলো জানার পর দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে যান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিধি অনুযায়ী প্রতিটি নিহত পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিহতদের তথ্যসংক্ষেপ
নাম
বয়স
এলাকা
পেশা/পরিচয়
মৃত্যুর স্থান
রাজীব মিয়া
২৫
জয়পাশা, কাইটাইল ইউনিয়ন, মদন
ইটভাটার শ্রমিক
গণেশের হাওর
শামসুল হুদা
৪৯
দেখলেই পশ্চিম পাড়া, মাসকা ইউনিয়ন, কেন্দুয়া
কাপড় ব্যবসায়ী
মুরাইল বিলের দেওয়াল খাল
আশরাফুল ইসলাম
অনির্দিষ্ট
ডাউকি, কেন্দুয়া
স্থানীয় বাসিন্দা
সান্দিকোনা খাল
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার অধিকাংশই খোলা জায়গা, জলাশয় বা কৃষিকাজের সময় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন আরও জানিয়েছে, বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলার বিষয়ে নিয়মিত প্রচার চালানো হচ্ছে।