খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুন ২০২৬, ৯:১৬ এএম
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল ও সমাবেশের প্রেক্ষাপটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী, সোমবার (২২ জুন) থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর এবং চট্টগ্রাম এলাকায় সেনা মোতায়েন কার্যকর থাকবে। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরের মহানগর এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন ও তাদের সমর্থকদের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন, সমাবেশ কিংবা অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সেনা মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।
| এলাকা | প্রশাসনিক অবস্থা | মোতায়েনের সময়সীমা |
|---|---|---|
| ঢাকা | মহানগর এলাকা | ২২ জুন – ৩০ জুন |
| চট্টগ্রাম | মহানগর এলাকা | ২২ জুন – ৩০ জুন |
| গাজীপুর | মহানগর এলাকা | ২২ জুন – ৩০ জুন |
| নারায়ণগঞ্জ | জেলা | ২২ জুন – ৩০ জুন |
| গোপালগঞ্জ | জেলা | ২২ জুন – ৩০ জুন |
| ফরিদপুর | জেলা | ২২ জুন – ৩০ জুন |
‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ ব্যবস্থার আওতায় সেনাবাহিনী সাধারণত বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করে থাকে। বিশেষ পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধ এবং জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, শিল্পাঞ্চল গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে সেনা মোতায়েন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে এবং জনগণ স্বাভাবিকভাবে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
মন্তব্য