খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আটটি অভিযোগে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সব দণ্ড একযোগে কার্যকর হবে। ফলে আইনগতভাবে তাকে ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালত সূত্র জানায়, এই মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন হাসানুল হক ইনু। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্রে উল্লেখিত আটটি অভিযোগ পৃথকভাবে পর্যালোচনা করে রায় দেন। বিচার চলাকালে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, উপস্থাপিত নথি ও অন্যান্য প্রমাণ, পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক বিবেচনায় নেওয়া হয়। এসব তথ্য-প্রমাণের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই আদালত তার সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
রায়ে প্রতিটি অভিযোগে পৃথক মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, সব সাজা একই সময়ে কার্যকর হবে। অর্থাৎ একটি সাজা শেষ হওয়ার পর আরেকটি শুরু হবে না। আইনের ভাষায় একে একযোগে দণ্ড কার্যকর হওয়া বলা হয়। এ কারণে পৃথক সাজাগুলোর মোট মেয়াদ ৩০ বছর হলেও ইনুকে কার্যকরভাবে ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের আইনের অধীনে গঠিত একটি বিশেষ আদালত। ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত মামলাগুলোর বিচার নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়। অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, নথিপত্র পর্যালোচনা, উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক এবং আইনগত বিশ্লেষণের পর আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে। এই মামলাও একই বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়।
হাসানুল হক ইনু দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি অতীতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর্যায়ে পৌঁছে।
রায়ের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনাল পর্যায়ের বিচার শেষ হলেও মামলার সব আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পক্ষ চাইলে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারবেন কিংবা আইনে নির্ধারিত অন্য কোনো প্রতিকার চাইতে পারবেন। ফলে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে ভবিষ্যতে নেওয়া আইনগত পদক্ষেপ এবং উচ্চতর আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।