খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুন ২০২৬, ১০:১ এএম
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার জেরে গুরুতর আহত এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে সোমবার গভীর রাতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি করেছে।
নিহত একেন মোল্লা (৬৫) শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আদালত মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বগুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতা রাকিবুল ইসলাম খান দিপুর সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুন বগুড়া গ্রামে মাদককে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে একেন মোল্লা গুরুতর আহত হন। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা চললেও অবস্থার আরও অবনতি হলে সোমবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজধানীতে পৌঁছানোর আগেই পথেই সোমবার মধ্যরাতে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শৈলকুপার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাব, সামাজিক আধিপত্য এবং স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সামান্য ঘটনা থেকেও বিরোধ দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ এই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এতে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, এতে কারা প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছে এবং কারও উসকানি ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের মৃত্যুর পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রত্যাশা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য