খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
জামালপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে টানা ১১ দিন একটি বাসায় অবরুদ্ধ রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পাশাপাশি অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ, অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী নারী। যদিও অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় দলীয়ভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিএনপি।
বুধবার রাতে জামালপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মুর্শেদা আক্তার মিহা অভিযোগ করেন, জমি কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার নেন নিজাম উদ্দিন। পরে সেই অর্থ ও স্বর্ণ ফেরত চাইলে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং একাধিকবার জোরপূর্বক আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মুর্শেদা আক্তার আরও বলেন, একপর্যায়ে তাকে এবং তার শিশুসন্তানকে অপহরণ করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডাবের পানির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে পান করানোর পর তাকে অচেতন অবস্থায় অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। সামান্য জ্ঞান ফেরার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর এবং টিপসই নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার আগের স্বামীকে তালাক দেওয়া, অভিযুক্তের সঙ্গে বিয়ে এবং পরে সেই বিয়ের বিচ্ছেদসংক্রান্ত নথিতেও আগাম স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, এরপর জামালপুর শহরের বোসপাড়া এলাকার একটি বাসায় তাকে টানা ১১ দিন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ওই সময় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করা হয়। শুধু তাই নয়, ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে নীরব থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, এসব ঘটনার বিচার চেয়ে গত ৩০ জুন জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলা করার পর থেকেই তাকে এবং তার প্রবাসী স্বামীকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের, তার স্বামী এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীর স্বামী, প্রবাসী সেলিম মিয়া, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার স্ত্রীর ছবি বিকৃত করা হয়েছে এবং অশালীন ভিডিও তৈরি করে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।
তবে সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন। তার দাবি, মুর্শেদা আক্তার তার তৃতীয় স্ত্রী এবং অর্থ কিংবা স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে তাকে হেয় করার চেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপি বিষয়টি আমলে নেয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুর কাদের জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মামলার তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা নিরূপণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। অভিযোগের বিষয়ে আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে মামলার অগ্রগতি, তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।