খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল ফ্রান্স। শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে উরুর চোটে ছিটকে গেছেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি। ফলে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঝমাঠে নতুন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামতে হবে কোচ দিদিয়ের দেশমের দলকে।
বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৩টায় ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচ। নকআউট পর্বের এই লড়াইয়ে হারলেই বিদায়, আর জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে চুয়ামেনির ছিটকে যাওয়া ফরাসি শিবিরে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা ছিলেন চুয়ামেনি। রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সংযোগ তৈরি, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া, বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তিনি দলের কৌশলগত পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। কিন্তু উরুর চোটের কারণে শেষ ষোলোর এই ম্যাচে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না, যা কোচ দিদিয়ের দেশমকে একাদশ ও কৌশল পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য করেছে।
চুয়ামেনির অনুপস্থিতিতে ফ্রান্সের মিডফিল্ডে দায়িত্ব বাড়বে অন্য অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের ওপর। মাঝমাঠে ভারসাম্য ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি আক্রমণভাগে দ্রুত বল সরবরাহ করাও হবে তাদের বড় চ্যালেঞ্জ। নকআউট পর্বে একটি ছোট ভুলও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে, তাই চুয়ামেনির অভাব কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি ম্যাচেই স্পষ্ট হবে।
অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর প্যারাগুয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে তারা শক্তিশালী জার্মানিকে নাটকীয় টাইব্রেকারে হারিয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে। পুরো ম্যাচে তাদের রক্ষণভাগ ছিল সংগঠিত, আর গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। তার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভই প্যারাগুয়েকে শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেয়।
ফ্রান্স কাগজে-কলমে শক্তিশালী দল হলেও নকআউট পর্বে অতীতের পরিসংখ্যান খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না। একটি ম্যাচের পারফরম্যান্সই সবকিছু নির্ধারণ করে দেয়। কিলিয়ান এমবাপেকে ঘিরে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ যতটা ভয়ংকর, প্যারাগুয়ের আত্মবিশ্বাসও ততটাই উঁচুতে। জার্মানির বিপক্ষে পাওয়া জয় তাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে যে, বড় দলকে হারানোর সামর্থ্য তাদের রয়েছে।
ফরাসি দলে অভিজ্ঞতার অভাব নেই। তবে চুয়ামেনির মতো একজন নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডারের অনুপস্থিতি ম্যাচের গতি ও কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রতিপক্ষের জন্য সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দেশমের মূল চ্যালেঞ্জ হবে এমন একটি একাদশ সাজানো, যা চুয়ামেনির শূন্যতা যতটা সম্ভব পূরণ করতে সক্ষম হবে।
অন্যদিকে প্যারাগুয়ে চাইবে নিজেদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং আত্মবিশ্বাসী ফুটবল ধরে রাখতে। জার্মানির বিপক্ষে যেভাবে ধৈর্য ও দৃঢ়তা দেখিয়েছে তারা, সেই একই ছন্দ বজায় রাখতে পারলে ফ্রান্সকেও কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে শেষ ষোলোর এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হওয়ার আভাস দিচ্ছে। একদিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের অভিজ্ঞতা ও তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড, অন্যদিকে অঘটন ঘটানোর আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত প্যারাগুয়ে। চুয়ামেনির অনুপস্থিতি ফ্রান্সের জন্য বড় ধাক্কা হলেও, এমবাপেদের লক্ষ্য একটাই—এই বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করা।