খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় টানা বর্ষণের জেরে এক ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটির নিচে চাপা পড়ে লক্ষ্মী বিলাস চাকমা (৭০) নামের এক প্রবীণ ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লাইল্যাঘোনা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত লক্ষ্মী বিলাস চাকমা ওই এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত ধরনাচাষ্য চাকমার ছেলে। এই ঘটনায় স্থানীয় পাহাড়ি জনপদে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত লক্ষ্মী বিলাস চাকমার বসতবাড়িটি পাহাড়ের একদম পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অবস্থিত ছিল। গত কয়েকদিনের টানা ও ভারী বর্ষণের কারণে ওই এলাকার পাহাড়ের মাটি নরম ও আলগা হয়ে পড়েছিল। আজ সকালে তিনি তার বাড়ির ঠিক পাশে একটি গাছ কাটার কাজ করছিলেন।
গাছ কাটার একপর্যায়ে আকস্মিকভাবে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে সরাসরি তার ওপর এসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে টন মেপে নরম মাটি ও কাদা তার শরীরকে ঢেকে ফেলে। মাটির নিচে সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তার শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে আশেপাশের মানুষজন ছুটে এসে মাটি সরিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই পাহাড়ধসের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। বাঘাইছড়িসহ রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় অসংখ্য পরিবার পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসতি স্থাপন করে জীবনযাপন করছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সচেতনতামূলক মাইকিং এবং নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও, অনেকেই নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে চান না। আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটির বাঁধন আলগা হয়ে যাওয়াকেই এই ধরনের ধসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাহাড়ধসে এক বৃদ্ধের প্রাণহানির এই দুঃখজনক বিষয়টি বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পরপরই দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উদ্ধার তৎপরতা এবং পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পুরোপুরি পর্যবেক্ষণ করার পর বিস্তারিত তথ্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে থাকা অন্যান্য পরিবারগুলোকে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য পুনরায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।