খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে থমকে গেছে রেল যোগাযোগ। চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় রেললাইনের ওপর হাঁটু পানি জমে যাওয়ায় ঢাকার কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি মাঝপথে আটকে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। ট্রেনটিতে এই মুহূর্তে প্রায় এক হাজার যাত্রী রয়েছেন, যারা গন্তব্যের ঠিক আগে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম ও স্থানীয় স্টেশন সূত্র জানায়, আজ সকাল সোয়া ৬টায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পর্যটকদের নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল ট্রেনটি। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে ট্রেনটি চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন অতিক্রম করার পরেই বিপত্তি ঘটে। টানা বৃষ্টির ফলে সামনের রেললাইন সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ট্রেনের ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারত। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চালক দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দিতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই ট্রেনটি ওই কর্দমাক্ত ও জলমগ্ন এলাকায় অলস দাঁড়িয়ে আছে।
হঠাৎ মাঝপথে ট্রেন থেমে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেনের ভেতরেই বন্দি থাকায় বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে। তা ছাড়া চারপাশের থৈ থৈ পানি দেখে অনেকের মনে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। অনেকেই দুশ্চিন্তা প্রকাশ করছেন যে কখন এই পানি কমবে আর কখনই বা তারা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। জানালিহাট স্টেশনমাস্টার নেজাম উদ্দিন গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রেললাইনের ওপর বিপজ্জনক মাত্রায় পানি জমে থাকায় ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এক হাজারের মতো যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে আছে। লাইন থেকে পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত ট্রেনটি সামনে এগিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তবে যাত্রীদের এই দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে রেলওয়ে প্রশাসন। বিভাগীয় কন্ট্রোল রুমের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরেকটি শক্তিশালী ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সেই উদ্ধারকারী ইঞ্জিন দিয়ে আটকে পড়া পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে উল্টো টেনে পেছনের দিকে নিয়ে আসা হবে এবং আপাতত চট্টগ্রাম স্টেশনে ফিরিয়ে এনে যাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হবে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে এবং রেললাইন থেকে পানি সম্পূর্ণ নেমে গেলে পুনরায় কক্সবাজারের উদ্দেশে ট্রেনটি যাত্রা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য