খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ১:২০ পিএম
দিনাজপুরে অপহৃত এক ব্যক্তিকে উদ্ধারের পাশাপাশি মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের দুই নেতা। শুধু তাই নয়, আটক ওই নেতাদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার তদবির করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও তিন কর্মী। অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলায় আজ মঙ্গলবার এই পাঁচজনকেই আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরন্নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত রোববার রাতে দিনাজপুর সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদকে (৫৮) তার নিজস্ব বাসভবন থেকে একদল দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ওই ব্যক্তির পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ব্যাপক দরকষাকষির পর অবশেষে চার লাখ টাকার বিনিময়ে অপহৃত সামাদকে ছেড়ে দিতে রাজি হয় তারা। সেই চুক্তি অনুযায়ী সোমবার বিকেলে সামাদের ছেলে মো. মামুনকে মুক্তিপণের টাকাসহ শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে ডেকে পাঠানো হয়।
বিষয়টি মামুন গোপনে পুলিশকে জানালে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ওই এলাকায় ওত পেতে থাকে। অপহরণকারীরা টাকা নিতে এলে পুলিশ চারদিক থেকে ঘেরাও করে একটি প্রাইভেটকার থেকে অপহৃত আব্দুস সামাদকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকেই দুই অপহরণকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া এই দুজন হলেন—জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন এবং এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য হাসীন ইসরাক মিম (২২)।
নাটকের এখানেই শেষ নয়; আটক নেতাদের থানায় নিয়ে আসার পর এনসিপি ও যুবশক্তির বেশ কিছু নেতাকর্মী থানায় এসে তদবির শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা আটক আসামিদের জোর করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত হট্টগোলের কারণে পুলিশ থানা থেকেই মিনাজ (২৯), প্রেম (২২) ও হৃদয় ইসলাম (২২) নামের আরও তিনজনকে আটক করে।
এই ঘটনায় সোমবার রাতেই অপহৃতের ছেলে মো. মামুন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত এই পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে এনসিপি নেতাদের এই অপকর্মের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ এনসিপি সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কোতোয়ালি থানার ওসি নুরন্নবী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এর পেছনে আগের কোনো আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অধিকতর তদন্তের পর পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে। অন্যদিকে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া হাসীন ইসরাক মিম তাদের জেলা কমিটির কোনো সদস্য নন। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই আইন অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত অপরাধী যেই হোক না কেন, তার যেন সঠিক বিচার হয়।
মন্তব্য