খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ২:২৫ পিএম
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কুইজবাড়ী গ্রামের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস ব্যবসায়ী মাসুদ রানা হত্যা রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারী ও তাঁর ছেলেসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার এই সর্বশেষ অগ্রগতি ও আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন।
পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—কুইজবাড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত শওকত আলীর স্ত্রী মোছা. হনুফা বেগম (৩৮) এবং তাঁর ছেলে মো. হুমায়ুন (২২)। এ ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে হুমায়ুনের সহযোগী হিসেবে একই এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলে নূর মোহাম্মদ (২৬) ও মো. বাবু (২৮) এবং কুইজবাড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর ছেলে মো. আয়নাল হককে (৫৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যবসায়ী মাসুদ রানার সঙ্গে গ্রেফতার হনুফা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে একটি গোপন পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি বিষয়টি হনুফা বেগমের ছেলেরা জেনে যান। পরিবারের সম্মানহানি ও ক্ষোভ থেকে হনুফার ছেলেরা মাসুদ রানাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত সপ্তাহে সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ী মাসুদ রানাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, গত ৫ জুলাই কুইজবাড়ী এলাকা থেকে ব্যবসায়ী মাসুদ রানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার শুরুতে এটি একটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ছিল। তবে পুলিশি তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের কললিস্ট ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে হনুফা বেগমকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের পুরো বিষয়টি স্বীকার করেন। হনুফার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁর ছেলে হুমায়ুনসহ বাকি চার সহযোগীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ওসি আরও জানান, গ্রেফতারের পর আসামিরা এই নৃশংস খুনের সঙ্গে নিজেদের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল শুক্রবার আসামিদের টাঙ্গাইল আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ আসামিদের দেখানো স্থান থেকে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা হাতুড়িও আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার পেছনে আর কোনো কারণ বা অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য