খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ৪:৫১ পিএম
রাজধানীর মহাখালীতে পরকীয়ার জেরে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রেমিকার ছুরিকাঘাত ও পুরুষাঙ্গ কর্তনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মামুন ভূঁইয়া (২৮) নামের বাংলাদেশ রেলওয়ের এক তরুণ কর্মকর্তা। শনিবার দুপুরে মহাখালী টিবি গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। মারাত্মক জখম অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মারা যান। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিউটি আক্তার নামের ওই প্রেমিকাকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে মহাখালী টিবি গেট এলাকায় বিউটি আক্তারের ভাড়া বাসায় যান মামুন। সেখানে দুজনের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও মনোমালিন্য শুরু হয়। ঝগড়া এক পর্যায়ে চরম আকার ধারণ করলে বিউটি উত্তেজিত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে মামুনের বুক ও পেটে উপ্যুপরি আঘাত করেন। শুধু তা-ই নয়, নৃশংসতার চরম সীমায় গিয়ে তিনি মামুনের পুরুষাঙ্গ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বাসাটির মালিক সুমন মাহমুদ জানান, অভিযুক্ত বিউটি আক্তার মাত্র একদিন আগে, অর্থাৎ শুক্রবার ওই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। শনিবার দুপুরে মামুন সেই রুমে আসার পর থেকেই ভেতর থেকে দুজনের তীব্র চিল্লাচিল্লির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে মামুনের গোঙানি ও বাঁচানোর আকুল চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে যান। দরজা খুলে তারা ঘরের মেঝেতে মামুনকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘরের ভেতর এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। বনানী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং রক্তমাখা ছুরিসহ বিউটি আক্তারকে হাতেনাতে আটক করে।
হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তারেক হাসান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত বিউটি আক্তারকে আটক করেছে। অপরাধে ব্যবহৃত আলামত জব্দ করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে মামুনের এমন অকাল ও নৃশংস মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। নিহতের চাচা মোকসেদ আলী ভূঁইয়া জানান, মামুন ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মালিয়াটি গ্রামের বাবুল ভূঁইয়ার ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মামুন ছিলেন মেজো। অনেক কষ্ট ও জল্পনা-কল্পনার পর মাত্র পাঁচ মাস আগে বাংলাদেশ রেলওয়েতে তার চাকরি হয়েছিল। মাসখানেক আগে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে জান্নাত নামের এক নারীর সঙ্গে মামুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা এবং তিনি গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সন্তানের মুখ দেখার আগেই মামুনের এমন নৃশংস বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার ও সহকর্মীরা। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।
মন্তব্য