খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ৮:৫৯ এএম
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার বিশাল রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস। তবে এবার ধর্মীয় কারণে নয়, বরং মুদ্রা পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানী ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানি লন্ডারিং মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে সিআইডি বা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই মামলায় ডিবির পরিদর্শক কে এম রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান।
আজ সোমবার বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হরিদাসকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে আসা হয়। বিকেল চারটায় ডিবির একটি সাদা গাড়িতে করে তাকে আদালত প্রাঙ্গণে নামানো হয়। এ সময় তার গায়ে লাল টি-শার্ট ও পরনে লুঙ্গি ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে পরানো হয়েছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট, হাতে ছিল হাতকড়া। পরে ৪টা ২৪ মিনিটে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হলে পুলিশ তার হেলমেট ও হাতকড়া খুলে দেয়।
শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে দেশ ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) চ্যানেলগুলোতে অস্বাভাবিক ও বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এই বিপুল অর্থের উৎস কী, কারা এই টাকা পাঠিয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তা খুঁজে বের করতেই তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
অন্যদিকে রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন চান আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্যামল কুমার রায়। তিনি আদালতে দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ একটি ভুয়া মামলা এবং দেশে ধর্মীয় সংঘাত তৈরি ও ধর্মীয় কাজে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মক্কেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই। তার একমাত্র অপরাধ তিনি একটি সুন্দর মন্দির তৈরি করেছেন, যেখানে হাজারো মানুষ প্রার্থনা করতে যান। প্রার্থনা করার জন্য বড় মন্দির বানানো কোনো অপরাধ হতে পারে না।
আসামিপক্ষের এই বক্তব্যকে তাৎক্ষণিকভাবে মিথ্যা ও মনগড়া বলে নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কবির হোসেন। তিনি আদালতকে বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও কোটি কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পেয়েই সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করেছে। ধর্মের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ কোথা থেকে এলো এবং এর পেছনে কোনো বিদেশি সংস্থা বা অপশক্তি রয়েছে কি না, তা জানার জন্য আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়া থেকেই নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন হরিদাস চন্দ্র। তিনি জানান, আগে তিনি কৃষিকাজ করতেন এবং বর্তমানে মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। আদালতের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কোনো ভক্ত যদি ভগবানের সন্তুষ্টির জন্য মন্দিরে টাকা দান করেন, তবে সেটি কি তার অপরাধ বা পাপ? নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তিনি কোনো ধরনের অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং হরিদাস চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
মন্তব্য