খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
রাজশাহীর চারঘাটে মসজিদ থেকে আরবি পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে পাটখেতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তিন যুবক মিলে নৃশংস এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক এজাহারে জানা গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে বুধবার চারঘাট মডেল থানায় অভিযুক্ত তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার শ্রীখণ্ডী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে লিমন ইসলাম (২২), জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে শিটু আলম (১৮) এবং সাবিবুর রহমানের ছেলে শিবা রহমান (১৬)। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি সামনে আসার পরপরই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি ওই তরুণীর বিয়ে সম্পন্ন হলেও তিনি বর্তমানে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তার স্বামী পেশাগত কারণে ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত। সে কারণে স্বামীর অনুপস্থিতিতে তিনি মায়ের সঙ্গেই চারঘাটের নিজ বাড়াতেই বসবাস করছিলেন এবং নিয়মিত স্থানীয় মসজিদে ধর্মীয় শিক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।
মামলার অভিযোগ এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের স্থানীয় একটি মসজিদে নিয়মিত আরবি পড়া শেষে একা বাড়ি ফিরছিলেন ওই তরুণী। পথিমধ্যে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ওই তিন যুবক তার গতিরোধ করে। তারা তরুণীকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে কাছের একটি নির্জন পাটখেতে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে লিমন, শিটু ও শিবা পর্যায়ক্রমে তাকে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে শারীরিক যন্ত্রণায় কাতরানো অবস্থায় তরুণী কোনোমতে বাড়িতে ফিরে এসে পুরো বিষয়টি তার পরিবার ও মাকে বিস্তারিত জানান। এ খবর পেয়ে পরদিন বুধবার সকালে তাকে দ্রুত শারীরিক চিকিৎসার জন্য চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজনেরা। চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগীর মা সরাসরি চারঘাট মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। ভুক্তভোগী তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত তিন আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযানে নেমেছে।