খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় পূর্ব শত্রুতা ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইব্রাহিম পলাশ নামে এক যুবককে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত নির্মমভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পলাশের দুই হাতের কব্জি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং কেটে নেওয়া হাত দুটি নিয়ে পালিয়ে যায়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পরদিনও নিহত পলাশের বিচ্ছিন্ন দুটি হাত উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গত ২১ জুলাই রাতে সবুজবাগের রাজারবাগ বাজারের পানির পাম্পসংলগ্ন একটি মুদিদোকানের সামনে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পলাশের মাথায়, ঘাড়ে, বুকে ও কোমরে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার ডান ও বাম দুটি হাতই কব্জি থেকে কেটে নেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও মারাত্মক জখমের কারণেই হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মাত্র পাঁচ মাস আগে বিয়ে করেছিলেন পলাশ। নতুন সংসার গুছিয়ে ওঠার আগেই ঘাতকদের হাত থেকে তিনি রেহাই পেলেন না। ঘটনার দিন বিকেলে বোন জোসনা বেগমের বাসা থেকে ভাগ্নি জান্নাতের জন্য জামিয়াতুল সালেহা মহিলা মাদ্রাসায় খাবার পৌঁছে দিতে বের হন পলাশ। এরপর কালিবাড়ি এলাকায় নিজের কাজের কথা বলে চলে যান। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকার খবর পেয়ে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরিস্থিতির অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ঢামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। রিকশা চুরি, গ্যারেজে চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রধান সূত্রপাত বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র মতে, কয়েকদিন আগে বাসাবো কলোনি এলাকা থেকে একটি রিকশা চুরি করে ‘কিডনি পঁচা সবুজ’ নামের এক কিশোর গ্যাং লিডার। রিকশার মালিক বিষয়টি নিয়ে বিচার চাইলে পলাশ হস্তক্ষেপ করেন। তাছাড়া রসুলের রিকশা গ্যারেজে ঢুকে মিস্ত্রীকে মারধর করে চাঁদা দাবি করেছিল সবুজ। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করায় সবুজের সহযোগী স্থানীয় সন্ত্রাসী রয়েল ও তার দলবল পলাশের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। কয়েক দিন আগে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে পলাশের ওপর আক্রমণও চালায় তারা।
হত্যার দিন রাতেও স্থানীয় একটি মোবাইল চুরির ঘটনা মীমাংসা করে দেন পলাশ। সেই খবরের জের ধরে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী রয়েল, গুরুদাস, সবুজ ও শফিক দেশীয় ধারালো ‘সামুরাই’ ও অস্ত্র নিয়ে এসে পলাশের ওপর আকস্মিক অতর্কিত হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা আগে থেকে এলাকা রেকি করে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে পলাশকে এলোপাতাড়ি কোপায় ও তার দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, ‘ইলিয়াস বাবু ওরফে ভিডিও বাবু’ নামের এক ব্যক্তির বাসায় বসেই পলাশকে হত্যার মূল নকশা করা হয়েছিল।
সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আর্থিক লেনদেন এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে রয়েলসহ কয়েকজন মিলে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার এবং নিহতের বিচ্ছিন্ন হাত দুটি উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল জোর তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে।