রাজধানীর ভাটারায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বেরিয়ে আগুন লাগার ঘটনায় দগ্ধ একই পরিবারের তিনজনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন আনোয়ার হোসেন শাহিন (২৫) এবং তাঁর আট বছর বয়সী ভাগনি হাফসা। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ আনোয়ারের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার এখনও জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থাকে আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু হাফসার মৃত্যু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আনোয়ার হোসেন শাহিন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় আনোয়ারের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং হাফসার শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। একই ঘটনায় ফাহিমা আক্তারের শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসকেরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ভাটারা থানার নতুন বাজার ১০০ ফুট এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচতলার ভাড়া বাসায়। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হন। পরে তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, গ্যাস সিলিন্ডারের কোনো একটি ছিদ্র বা সংযোগস্থল দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে কক্ষের ভেতরে জমে ছিল। পরে কোনো উৎস থেকে আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার হোসেন শাহিন রাজধানীর একটি কাপড়ের দোকানে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি ফাহিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। এরপর ভাটারার ওই ভাড়া বাসায় সংসার শুরু করেন। দুর্ঘটনার আগে তাঁদের বাসায় বেড়াতে এসেছিল ভাগনি হাফসা। স্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশে বেড়াতে এসে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার শিকার হয় শিশুটি।
গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার এখন দেশের অসংখ্য পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। সিলিন্ডার, রেগুলেটর ও পাইপের সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা, গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে আগুন বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার না করা এবং দ্রুত নিরাপদ ব্যবস্থা নেওয়া এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
ভাটারার এই মর্মান্তিক ঘটনায় একটি পরিবারের ওপর নেমে এসেছে গভীর শোক। দুইজনের মৃত্যু এবং আরেকজনের সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা ফাহিমার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।