খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাটিং করা মানেই যেন ভারতকে স্কোরবোর্ডে ২০০ বা তার বেশি রানের পর্বত গড়তে দেখা। ব্যাটারদের তাণ্ডব আর চড়াও ব্যাটিং শৈলীতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের গতিপথ নতুন করে লিখছে দলটি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারারেতে আবার সেই চেনা রূপেই দেখা গেল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রান তোলে তরুণ ভারতীয় দল। আর এর মধ্য দিয়েই এক ক্যালেন্ডার বর্ষে সবচেয়ে বেশিবার ২০০ বা তার বেশি রান করার নতুন এক ইতিহাস গড়েছে ভারত।
চলতি ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এটি ভারতের নবম ২০০ বা তদূর্ধ্ব রানের ইনিংস। এর আগে এই রেকর্ডটির মালিকও ছিল ভারত নিজেই। ২০২৪ সালে তারা এক পঞ্জিকাবর্ষে ২৬টি ম্যাচ খেলে ৯ বার ২০০ রান স্পর্শের কীর্তি বানিয়েছিল। সে বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রোহিত শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবের সুশৃঙ্খল নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে বেশ কয়েকটি ম্যাচে বড় রানের রেকর্ড গড়েছিল দল। ২০২৬ সালেও চ্যাম্পিয়নের শিরোপা ধরে রাখার পর সূর্যকুমারের জায়গায় নতুন অধিনায়কত্ব পান শ্রেয়াস আইয়ার।
অধিনায়কত্বের পরিবর্তন এলেও ভারতের আগ্রাসী ব্যাটিং দর্শনে যে একটুও ভাঁটা পড়েনি, তার প্রমাণ দিচ্ছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। ২০২৪ সালে যেখানে ৯ বার ২০০ রান ছুতে ২৬টি ম্যাচ লেগেছিল, সেখানে ২০২৬ সালে মাত্র ২৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই ৯ বার দুই শর গণ্ডি পেরিয়ে গেছে দলটি। চলতি বছরের আরও কয়েক মাস বাকি থাকায় এই রেকর্ডটি যে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, তা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়।
হারারে স্পোর্টস ক্লাবে প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে জয়ের পর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে কোণঠাসা করে ফেলে ভারত। বড় রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভারতের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই তাণ্ডব চালান। চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে ঈশান কিষান ৪৪ বলে ঝোড়ো ৮১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে তিলক বর্মা ২৯ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ওভার শেষে ভারতের দলীয় রান দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২১৯।
২২০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৭.৫ ওভারে মাত্র ১২৯ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকেরা। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্রায়ান বেনেট সর্বোচ্চ ৩২ রান ও মারুমানি ২৪ রান করেন। বল হাতে ভারতের অভিষেক শর্মা ৩টি এবং যশ ঠাকুর ও তরুণ বোলার প্রিন্স যাদব ২টি করে উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষকে দ্রুত গুটিয়ে দেন। ৯০ রানের বিশাল জয়ে সিরিজে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার পাশাপাশি ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন সেঞ্চুরি ছোঁয়া ইনিংসে নেতৃত্ব দেওয়া ঈশান কিষান।