খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকার সাভারে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ১৫ বছর বয়সী ছেলের নির্মম আঘাতে এক বাবার করুণ মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক এই কলহের জের ধরে ঘাতক ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম মহিন মিয়া (৩৮), যিনি পেশায় একজন দুধ বিক্রেতা ছিলেন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় চরম শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়া ছাকিপাড়া এলাকায় সোমবার ভোররাতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। আটককৃত কিশোর জিসান দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্ত ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার তাকে মাদকের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
ঘটনার দিন ভোররাতে জিসান মাদক গ্রহণ করতে গেলে তার বাবা মহিন মিয়া তাকে বাধা দেন এবং এ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জিসান তার বাবার সঙ্গে উত্যপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। তর্কের একপর্যায়ে জিসান নিয়ন্ত্রণে হারিয়ে তার বাবার ওপর চড়াও হয় এবং বেপরোয়াভাবে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে সে তার বাবার অণ্ডকোষে অত্যন্ত মারাত্মকভাবে আঘাত করে। এতে মহিন মিয়া তীব্র যন্ত্রণায় ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার তীব্রতায় প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং সাভার মডেল থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত রাজফুলবাড়িয়া ছাকিপাড়া এলাকার ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরবর্তীতে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ধরন নিশ্চিত করার জন্য লাশটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ জানান:
“স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত জিসানকে আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তির ব্যাপ্তি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। মাদকের করাল গ্রাসে ধ্বংস হচ্ছে তরুণেরা, যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। বাবার মতো নিকটাত্মীয়কে নিজের সন্তানের হাতে প্রাণ দিতে হওয়ার এই ঘটনাটি সমাজে মাদকের ভয়াবহ পরিণতির এক নির্মম দলিল হয়ে রইল। সচেতন মহল সাভার ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে মাদকের কেনাবেচা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কঠোর ভূমিকা ও জোরদার নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।