খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
শাপকোয়েন্সের বিপক্ষে ব্রাজিলিয়ান লিগের ম্যাচে নাটকীয় ২-২ ব্যবধানে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে সান্তোস। পুরো ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে সম্ভাব্য হারের হাত থেকে নিশ্চিত রক্ষা করেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী ফুটবল তারকা নেইমার দা সিলভা। তবে শেষ মুহূর্তের গোল আর মাঠের সেই বীরত্বগাথা ঢেকে গেছে বিরতির সময় ড্রেসিংরুমে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত এক ঘটনার কাছে। সতীর্থদের সাথে তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের সংকটের জন্ম দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হাফ-টাইমে ড্রেসিংরুমে ফেরার পর দলের বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়ের ওপর চড়াও হন বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই ফরোয়ার্ড। তার আক্রোশের মূল লক্ষ্য ছিলেন গ্যাব্রিয়েল বনতেম্পো এবং জোয়াও অ্যানানিয়াস। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফর্মহীনতায় ভুগতে থাকা তরুণ ফুটবলার বনতেম্পোকে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন নেইমার। এমনকি বনতেম্পো আগামী মৌসুমে শাপকোয়েন্সের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগেই খেলবেন বলে উপহাসও করেন তিনি। ক্লাব কর্তাদের ধারণা, বিরতির সময়কার এই চরম বিশৃঙ্খলা দ্বিতীয়ার্ধে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্বকাপে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার পর ক্লাব ফুটবলে ফেরার এটাই ছিল নেইমারের প্রথম ম্যাচ। ম্যাচের শুরুতে সান্তোস এগিয়ে গেলেও পরবর্তীতে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় শাপকোয়েন্স। ম্যাচের একদম শেষ দিকে ঠাণ্ডা মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান নেইমার। তবে মাঠের খেলায় নায়ক বনে যাওয়া এই ফরোয়ার্ড একই ম্যাচে একটি হলুদ কার্ডও দেখেন, যার ফলে পরবর্তী এক ম্যাচের জন্য তাকে স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞায় থাকতে হচ্ছে।
যদিও ব্রাজিলের সর্বকালের শীর্ষ এই গোলদাতার মুখপাত্র বা ঘনিষ্ঠরা ঘটনাটি নিয়ে মুখ খোলেননি, তবে বনতেম্পো ও অ্যানানিয়াস উভয়েই নিশ্চিত করেছেন যে প্রথমার্ধ শেষে প্রকাশ্যেই বিতর্ক হয়েছিল। অবশ্য গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপমানজনক কটূক্তির বিষয়টি তারা অস্বীকার করেছেন।
পরিস্থিতি যাতে আরও ঘনীভূত হতে না পারে এবং দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি বিনষ্ট না হয়, সেজন্য তড়িঘড়ি করে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সান্তোস কর্তৃপক্ষ। ক্লাবের লক্ষ্য এখন একটাই—ঘটনার মূল সত্যানুসন্ধান করে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ প্রশমিত করা এবং মাঠের সামনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে ড্রেসিংরুমে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।