চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নে মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরল এলাকার বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত জিল্লুর রহমান পশ্চিম সরল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সরল ইউনিয়নের মাছের ঘের ও লবণ মাঠের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মনসুর গ্রুপ ও কবির গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এলাকার এসব ঘের ও লবণ মাঠ অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে অতীতেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র এবং লাঠিসোঁটা ব্যবহার করে। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে আর বাঁচাতে পারেননি।
সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০ জনের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আহতদের পরিচয় ও তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম জানান, বাঁশখালী থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা সহিংসতার ঘটনা না ঘটে, সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি রাখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য