খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৪১ পিএম
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বিএনপির প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং দলীয় কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের পৃথক দুই ঘটনায় আওয়ামী লীগের দুই স্থানীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটককৃতদের শুক্রবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম মিঠু (৫০) এবং ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক লাবলু খন্দকার (৩৮)। মিঠু আড়কাটিয়া গ্রামের আলী সরকারের ছেলে এবং লাবলু জোলাগাঁতী গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধুনট থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টিম বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে নিজ নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
মামলা ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধুনটের কলাপট্টি এলাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের নির্বাচনী গণসংযোগ চলছিল। ওই সময় গণসংযোগে হঠাৎ করেই হামলা চালানো হয়। এতে প্রার্থীর বহরে থাকা দুটি জিপ ও দুটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করার পাশাপাশি অন্তত ১০টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই সহিংসতার ঘটনায় ধুনট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহীন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলার এজাহারনামীয় তালিকাভুক্ত আসামি ছিলেন লাবলু খন্দকার।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ জুন ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিম ভরনশাহীতে বিএনপির একটি কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, কর্মসূচি চলাকালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে এবং বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর করে। ঘটনাটি ২০২৩ সালের হলেও দীর্ঘ সময় পর, ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি ধুনট উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশাদুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ককটেল বিস্ফোরণ ও কার্যালয় ভাঙচুরের এই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে নজরুল ইসলাম মিঠুকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার দুপুরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উভয় ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য