খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ২:১৩ পিএম
বরিশালের বাবুগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের (বলাৎকার) দায়ে অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহ (২৬)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পলাতক থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে নাটোর থেকে আইনশৃঙ্খলার আওতায় আনে। পরবর্তীতে শনিবার তাকে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও মামলা দায়ের
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার চক হিয়াতপুর গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে মো. মাসুম বিল্লাহ বাবুগঞ্জ উপজেলার ‘আল ইকরা দারুল উলুম নূরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসা’য় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। গত ১৫ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি হিফজ বিভাগের ১২ বছর বয়সী ওই শিশু শিক্ষার্থীকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে মাদরাসার পর্দার আড়ালে নিয়ে যান এবং তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান।
ঘটনার পর ভীতি কাটিয়ে উঠে ভুক্তভোগী শিশুটি পুরো বিষয়টি তার স্বজনদের কাছে তুলে ধরে। অভিযোগ শুনে শিশুটির পিতা ন্যায়বিচারের আশায় গত ১১ এপ্রিল বাবুগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিশুটিকে অবিলম্বে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নাটোর থেকে গ্রেফতার
মামলা রুজু হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ সময় ধরে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযুক্তের সম্ভাব্য বিভিন্ন আস্তানায় নজরদারি চালায়। অবশেষে গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গত ৩১ জুলাই গভীর রাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার চক হিয়াতপুর গ্রামে আসামির নিজ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং মাসুম বিল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক পদক্ষেপ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, শিশু অধিকার সুরক্ষা ও অপরাধের বিচারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। সাড়ে তিন মাসের নিরলস নজরদারির পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। শনিবার (১ আগস্ট) তাকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ಪ್ರಕರಣটির তদন্ত শেষ করে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
মন্তব্য