খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৪৪ পিএম
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি বোমা-আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়া ও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য কোনো হামলার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করেছে পুলিশ প্রশাসন। এটি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বজায় রাখার নিয়মিত কৌশলের অংশ হিসেবে জারিকৃত একটি কেবল ‘রিমাইন্ডার’।
আজ রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা শাখা) মো. শফিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ বাহিনী সর্বদাই দেশের সাধারণ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত থাকে। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও অন্যতম প্রধান কাজ। এই কারণে পুলিশ সদস্যদের সর্বদা সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়ে থাকে। সম্প্রতি কয়েকটি স্থানে বোমার গুঞ্জন ও বিভ্রান্তিকর কিছু ভুয়া তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা দেখা গেছে। এসব নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ তৎপর রয়েছে। যাতে পুলিশের যানবাহন ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যেই নিয়মিত বিরতিতে এই সতর্কবার্তা রিফ্রেশ করা হয়।
তিনি নিশ্চিত করেন যে, ইতিপূর্বেও একই ধরনের নিদের্শনা মাঠপর্যায়ে দেওয়া হয়েছে। এটি নতুন কোনো ভীতিকর পরিস্থিতি সংকেত দেয় না। বাহিনীর থানা, কার্যালয় ও সব ধরণের যানবাহন সুরক্ষিত রাখতেই পুলিশ সদস্যদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল রুম থেকে দেশের সব মাঠপর্যায়ের ইউনিটে অত্যন্ত জরুরি একটি বার্তা পাঠিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। সদর দপ্তরের ঐ গোপনীয় নিরাপত্তা বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছিল, উগ্রবাদী বা দুর্বৃত্ত চক্র পুলিশের ব্যবহৃত পিকআপ, জিপ, বাস কিংবা বিভিন্ন যানবাহনকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এই আশঙ্কার কারণে দায়িত্ব পালনকালীন যানবাহন কোনো নিরাপদ স্থানে পার্কিং করা এবং তা সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারিতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কাজ শেষে থানা, পুলিশ লাইনস বা সরকারি কার্যালয়ে রাখা গাড়িগুলোর নিরাপত্তায় নিয়মিত টহল বাড়াতে বলা হয়।
নিরাপত্তা বার্তার পর জনমনে বা পুলিশ সদস্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করতে সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীদের সক্রিয় রাখতে নিয়মিত এসব নির্দেশনা পাঠানো একটি সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এতে কারও উদ্বিগ্ন বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো ভিত্তি নেই।
মন্তব্য