খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১২ পিএম
খুলনায় এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি ও অর্থসহ এক শীর্ষ সন্ত্রাসী দল ‘বি কোম্পানির’ তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে নগরীর লবণচরা থানার রায়পাড়া এলাকায় পরিচালিত অভিযান থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড তাজা গুলি, ম্যাগাজিন এবং নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
র্যাবের আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আটককৃত তিনজন হলেন:
ইলিয়াস সরদার (৪২): পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
সুজন (৩৮): গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা।
নান্না বেপারী (৫৭): বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার আমুয়া গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত প্রত্যেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভয়ংকর মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী চক্র ‘বি কোম্পানির’ সক্রিয় সদস্য। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে খুলনা, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ একাধিক জেলায় হত্যাচেষ্টা, বিপুল পরিমাণ মাদকের কারবার এবং চুরিসহ নানা ধরনের একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে র্যাব-৬ এর সিপিসি স্পেশাল কোম্পানির কমান্ডার মেজর মো. নাজমুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর লবণচরা রায়পাড়া এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। খবর ছিল সেখানে সন্ত্রাসী দল ‘বি কোম্পানির’ সদস্যরা একত্রিত হয়ে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছে।
অভিযানের একপর্যায়ে সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে নান্না বেপারীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে চারদিক ঘিরে ফেলে র্যাব সদস্যরা। পরবর্তীতে বাড়িটিতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলে ইলিয়াস ও সুজনের কাছে অত্যন্ত সুকৌশলে রাখা দুটি আধুনিক বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ম্যাগাজিন এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত সমস্ত মালামাল বাজেয়াপ্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করা হয়।
অপরাধ জগতে প্রভাবশালী ও ভয়ংকর হিসেবে পরিচিত ‘বি কোম্পানির’ বিরুদ্ধে এমন সাঁড়াশি অভিযানে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। র্যাব কর্মকর্তা মেজর মো. নাজমুল ইসলাম আরও স্পষ্ট করেন যে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিতে নতুন করে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং তাদেরকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ খুলনার লবণচরা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং এই চক্রের অন্যান্য পলাতক সহযোগীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে র্যাবের এমন তদারকি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য