রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৮ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ জাল নোটসহ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানা। রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে চালানো এক সাঁড়াশি অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস দল।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন আল-আমিন (২৭) ও মো. সোহান হোসাইন (২৬)। পুলিশ জানায়, তারা দীর্ঘ দিন ধরে জাল নোটের অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
রুদ্ধশ্বাস অভিযান ও বিপুল পরিমাণ জাল টাকা উদ্ধার
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রোববার দুপুরে গোপন সংবাদের মাধ্যমে পুলিশ একটি গোপন খবর পায়। তথ্যে জানানো হয়, গুলশান-১ এলাকার একটি আবাসিক ভবনের সামনে কয়েকজন অপরাধী বিপুল পরিমাণ জালনোটের চালান বেচাকেনা বা হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
খবর পাওয়ার পরপরই গুলশান থানা পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে টিম সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে আল-আমিন ও সোহান হোসাইনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরবর্তীতে তাঁদের সাথে থাকা ব্যাগ ও তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ২৮ লাখ টাকার সমমানের জাল টাকা উদ্ধার করা হয়।
জাল টাকা তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার ছক
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সাধারণত ঈদ বা বড় কোনো উৎসব কিংবা ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে একটি অসাধু চক্র এ ধরনের জাল টাকা বাজারে ছাড়ার চেষ্টা করে। গ্রেপ্তারকৃতরা ঢাকার বিভিন্ন ব্যস্ত বাজারে এই টাকার চালানটি সরবরাহের উদ্দেশ্যে এনেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গুলশান থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত জাল নোটগুলোর পেছনে আরও কে বা কারা জড়িত রয়েছে এবং এই চক্রের মূল হোতা কারা, তা জানার চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া আল-আমিন ও সোহান হোসাইনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।



