খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৪ পিএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের সজোরে ধাক্কায় দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। রোববার (২ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ছনকা এলাকায় মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার চাঁনকুড়ী গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে মাছুদুর রহমান (৩৮) এবং একই উপজেলার জাহানপুর গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে নয়ন (৩৮)।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-২১৮৫ নম্বরের একটি ট্রাক মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় একই দিক থেকে ঢাকাগামী ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫৪৫৫ নম্বরের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে গুরুতর আহত দুই যাত্রীকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের কারণে সড়কে সাময়িক ধীরগতি দেখা দিলেও খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আইয়ুব আলী জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। সেখানে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত দুই ব্যক্তির মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে ট্রাকটি দাঁড়িয়ে থাকার সময়ই পেছন থেকে বাসটি ধাক্কা দেয়। তবে বাসটি কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল বা দুর্ঘটনার পেছনে চালকের বেপরোয়া গতি, অসতর্কতা কিংবা সড়কের দৃশ্যমানতার কোনো বিষয় ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
মহাসড়কে চলাচলের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের সামনে থাকা যানবাহনের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং রাতের বেলায় বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর ওপর গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে মহাসড়কের চলন্ত লেনে কোনো যানবাহন বিকল বা জরুরি কারণে দাঁড়িয়ে গেলে দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। শেরপুরের এই দুর্ঘটনায় দুই প্রাণহানির পাশাপাশি পাঁচজন আহত হওয়ার ঘটনায় আবারও মহাসড়কে নিরাপদভাবে যানবাহন চলাচল ও দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়টি সামনে এসেছে।
মন্তব্য