খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
সিলেটের বিশ্বনাথে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২০ পিস ইয়াবাসহ ইসলাম উদ্দিন ওরফে পিচ্চি ইসলাম (৩৯) নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার পুরান হাবড়া বাজার এলাকা থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে বুধবার দুপুরে সিলেট বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইসলাম উদ্দিন উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ছত্রিশ গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হান্নানের ছেলে। তিনি এলাকায় ‘পিচ্চি ইসলাম’ নামেই পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের সাথে জড়িত ছিলেন। সীমান্ত ঘেঁষা ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় পুরান হাবড়া বাজারসহ আশপাশের এলাকাগুলোকে তিনি মাদক বিক্রির আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। স্থানীয় একাধিক চক্রের মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজের হাতে এই প্রাণঘাতী মাদক পৌঁছে দেওয়াই ছিল তার মূল কাজ।
থানা পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে পুরান হাবড়া বাজারে কতিপয় মাদক কারবারি অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে—এমন গোপন খবর পায় বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশের একটি ক্ষিপ্র ও চৌকস দল সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সংগীয় ফোর্সের সহায়তায় ইসলাম উদ্দিনকে ঘেরাও করে আটক করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতে নিয়ম মেনে তার দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার পরনের পোশাক থেকে নীল রঙের পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ২০ পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত পিচ্চি ইসলাম স্বীকার করেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে বিশ্বনাথ ও এর আশপাশের খুচরা বিক্রেতা ও সেবনকারীদের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন। বিক্রির উদ্দেশ্যে সঙ্গে রাখা মাদকসহ হাতেনাতে ধরা পড়ায় তার বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত ইসলাম উদ্দিন একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বনাথের বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকের সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অংশ হিসেবে আমাদের এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মামলা রুজুর পর বুধবার দুপুরের দিকে প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়ার কাজ শেষ করে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুরান হাবড়া বাজার ও দৌলতপুর ইউনিয়নের কিছু পয়েন্টে বেশ কিছু দিন ধরে মাদকের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে বেশ উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল। পুলিশি অভিযানে চিহ্নিত এই অপরাধী ধরা পড়ায় স্থানীয় স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, এমন ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকলে বিশ্বনাথ উপজেলাকে খুব দ্রুত মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য