খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ৪:১৭ পিএম
দেশে হামের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে চারজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭৩৩ জন রোগী।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়। সর্বশেষ এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে, সংক্রমণের চাপ পুরোপুরি কমে না আসায় দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর এখনো উল্লেখযোগ্য চাপ বজায় রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ জনে। অর্থাৎ উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত হামে মৃত্যুর তুলনায় অনেক বেশি। তবে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনাই পরীক্ষার মাধ্যমে হাম হিসেবে নিশ্চিত হয় না। এ কারণে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ উপসর্গভিত্তিক এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া মৃত্যুর হিসাব আলাদাভাবে প্রকাশ করে থাকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাস খুব দ্রুত অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি হামের প্রধান লক্ষণ। শিশুদের পাশাপাশি টিকা না নেওয়া কিশোর, প্রাপ্তবয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও জটিলতা দেখা দিতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, কাশি বা হাঁচির সময় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এতে সংক্রমণের বিস্তার কমানো এবং জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি জ্বর, ফুসকুড়ি বা হামের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য ইঙ্গিত করছে, আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতা, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং টিকাদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য