খেলার আগে মিরাজের সেঞ্চুরি, থামল বাংলাদেশ ২৬৩ রানে
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দীর্ঘ ২৩ বছর পর টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে রয়েছে। আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ডারউইনে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের মুখোমুখি হয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার এই ম্যাচে ব্যাট হাতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৭৫.৫ ওভারে ২৬৩ রানেই অলআউট হয় সফরকারীরা। তবে কঠিন পরিস্থিতিতে একাই প্রতিরোধ গড়ে তুলে অপরাজিত সেঞ্চুরি করেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ডারউইনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়া একাদশের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে বল করে বাংলাদেশের ব্যাটারদের চাপে রাখেন। ইনিংসের মাত্র ৭ রানেই প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৮ বল মোকাবিলা করেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। হ্যানো জ্যাকবসের বলে স্যাম কন্সটাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি সাজঘরে ফেরেন।
অন্য ওপেনার সাদমান ইসলাম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৪৭ বলে ৩১ রান করে কোরি রকিচোলির শিকার হন তিনি। এরপর ক্রিজে আসা অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হকও সুবিধা করতে পারেননি। মাত্র ১৬ রান করে তিনিও রকিচোলির বলে আউট হন। আরও বড় ধাক্কা আসে মুশফিকুর রহিমের বিদায়ে। মাত্র চার বল খেলেই কোনো রান না করে ফিরে যান অভিজ্ঞ এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ফলে মধ্যাহ্নবিরতির আগেই ৭৮ রান তুলতে বাংলাদেশ হারায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
এরপর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অমিত হাসান। দুজন মিলে কিছুটা স্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও বড় জুটি গড়ে তুলতে পারেননি। অমিত ১৫ রান করে বিদায় নেন। শান্তও ৩৭ রান করে আউট হলে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পরে সৌম্য সরকার ১৬ রান করে ফিরে গেলে ইনিংসের ভার প্রায় পুরোপুরি এসে পড়ে মেহেদী হাসান মিরাজের কাঁধে।
একপ্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ধৈর্য ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন মিরাজ। শুরুতে সময় নিয়ে খেললেও পরে সুযোগ পেলেই আক্রমণাত্মক শট খেলেন। ১৪১ বলের ইনিংসে ১১টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে তিনি অপরাজিত ১০৯ রান করেন। টেস্ট সিরিজের আগে এই সেঞ্চুরি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ শীর্ষ ও মধ্যক্রম ব্যর্থ হলেও মিরাজের ব্যাট থেকে পাওয়া এই ইনিংস দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।
তবে মিরাজের দুর্দান্ত লড়াই সত্ত্বেও অন্যপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। শেষ ব্যাটার আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে ২৬৩ রানেই থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।
বল হাতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন অফস্পিনার কোরি রকিচোলি। ২৮ বছর বয়সী এই স্পিনার একাই ৬টি উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে ভেঙে দেন। বাকি চারটি উইকেট ভাগাভাগি করে নেন দলের অন্য চার বোলার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বোলারদের কারোরই এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। তবুও তারা শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ দেননি।
এই প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফল যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা। অস্ট্রেলিয়ার উইকেট সাধারণত অতিরিক্ত বাউন্স ও গতি প্রদান করে, যা উপমহাদেশের ব্যাটারদের জন্য সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতায় মিরাজের শতক যেমন আশাবাদ জাগিয়েছে, তেমনি শীর্ষ সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতা টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে থাকবে। সিরিজ শুরুর আগে এই ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ব্যাটিংয়ে আরও দৃঢ়তা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়েই মূল লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ।
মন্তব্য