মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত শেষে পুনরায় চালু হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। একই সাথে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সারা দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি দুর্যোগের আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
দেশজুড়ে সৃষ্ট গ্যাস সংকট পুরোপুরি দূর হতে কত সময় লাগতে পারে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ন্যূনতম দুই থেকে তিন দিন সময় লেগে যাবে। তবে টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার আগে যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যেত, মেরামত শেষে ঠিক আগের অনুপাতেই সরবরাহ ফিরিয়ে আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সাম্প্রতিক এই গ্যাস সংকটের ফলে বিদ্যুৎ খাতে সৃষ্টি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব ও লোডশেডিং বৃদ্ধির বিষয়টিও সরাসরি স্বীকার করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে কেবল বাসাবাড়ির সাধারণ মানুষই ভোগান্তিতে পড়ে না, বরং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন থমকে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে হয়। তবে টার্মিনাল চালু হয়ে গেলে বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত উৎপাদন শুরু হবে এবং বিদ্যুতের বর্তমান লোডশেডিং অনেকাংশে কমে আসবে। এই সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এই জটিলতা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং প্রকৃতির সামনে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার আগে সচিবালয়ে মন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। দ্বিপাক্ষিক ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান পাইপলাইনের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে আরও বেশি পরিমাণ ডিজেল আমদানির জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে গ্রাহকদের প্রি-পেইড ও এনালগ মিটারে ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আসার সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, বহু ক্ষেত্রে যারা অভিযোগ করছেন তারা মূল বিল নিয়ে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে যান না। এছাড়া গত জুন মাস থেকেই বিদ্যুতের দর সমন্বয় করা হয়েছিল। সাধারণ গ্রাহকরা গরমের কারণে মার্চ মাসের ব্যবহারের সাথে জুনের তুলনা করলেও বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ার কারণে অনেকের বিলে এই পার্থক্য দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য