রাজধানী ঢাকার গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় গোপন বৈঠকের সময় যশোর জেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ছয়জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে গুলশান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গুলশান এলাকার ‘পুলিশ প্লাজা’র পঞ্চম তলার একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
আটককৃতরা হলেন চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী, সদস্য এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নান্নু মিয়া, ঢাকা কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমিনুর রহমান পলাশ, আওয়ামী লীগ কর্মী সজল আহমেদ এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহিম হোসেন।
বিশেষ সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গুলশান থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। ওই রেস্তোরাঁয় যশোরের চৌগাছা উপজেলা ও স্থানীয় ইউনিয়ন কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা চলছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে যশোর এলাকার আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই মিলে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক ভিত্তি পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে সেখানে একত্র হয়েছিলেন।
রেস্তোরাঁয় অভিযান চালাতে গেলে এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে অবস্থানরত অনেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকেই ওই ছয়জনকে ধরে ফেলে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন অভিযানের বিষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তারা গোপনে জড়ো হয়েছিলেন। গোপন বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্দেশনাসহ স্থানীয় পর্যায় কমিটি পুনর্গঠনের আলোচনা চলছিল এবং বৈঠক শেষ করে পরবর্তীতে তারা রাজধানীতে একটি মিছিল বের করার পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা গুলশানের মতো অভিজাত এলাকার শপিং মল বেছে নিয়েছিলেন। আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পলাতকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মন্তব্য