খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) নতুন চারজন সদস্য নিয়োগ প্রদান করেছে সরকার। নবনিযুক্ত চার সদস্য হলেন—মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, মো. ফেরদৌস হোসেন এবং ইয়াসমিন গফুর। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করার মাধ্যমে এই নিয়োগের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাদের পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা স্ব স্ব দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর মেয়াদে অথবা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত—এই দুটি শর্তের মধ্যে যেটি আগে ঘটবে, সেই সময়সীমা পর্যন্ত পদে বহাল থাকবেন। নবনিযুক্ত সদস্যদের বেতন, ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সেবামূলক শর্তাবলি পিএসসি আইন এবং বিদ্যমান সরকারি বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত হবে।
নতুন এই চার সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করায় দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসির পর্ষদ এখন সম্পূর্ণ পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করেছে। বর্তমানে কমিশনটিতে চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। এদের মধ্যে একজন চেয়ারম্যান এবং ২০ জন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কিছুদিন ধরে কয়েকটি সদস্য পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা এবং নিয়মিত ভাইভা বোর্ড পরিচালনায় যে একধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল, এই নতুন নিয়োগের ফলে সেই শূন্যতা দূর হলো।
বাংলাদেশে সরকারি চাকরির পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্ব পালন করে থাকে পিএসসি। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার মতো বিশাল ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আয়োজনের প্রধান দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানের। প্রতি বছর লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা গ্রহণ, সারা দেশ থেকে সংগৃহীত লিখিত পরীক্ষার হাজার হাজার উত্তরপত্র নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন নিশ্চিতকরণ, প্রতিটি পদের উপযোগী প্রার্থী বাছাইয়ে টানা কয়েক মাসব্যাপী মৌখিক পরীক্ষা পরিচালনা এবং অবশেষে যোগ্যতম প্রার্থীদের চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে পাঠানো পিএসসির অন্যতম প্রধান কাজ।
বিসিএস ক্যাডার পদ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদের জন্য সরাসরি লিখিত ও লিখিত-পরবর্তী সাক্ষাৎকার পরীক্ষা পরিচালনা করে থাকে কমিশন। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে কর্মরত কর্মকর্তাদের চাকরির স্থায়ীকরণ, পদোন্নতির সুপারিশ প্রদান, বিভাগীয় পরীক্ষা পরিচালনা, কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারকে সংবিধান অনুযায়ী মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করার দায়িত্বও পালন করে এই প্রতিষ্ঠান।
বর্তমান সময়ে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময়সীমা কমিয়ে আনা এবং সেশনজট নিরসনে পিএসসির কার্যকর পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী পরীক্ষাগুলোর ফলাফল দ্রুত প্রকাশ এবং সুনির্দিষ্ট সময়সূচির মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কমিশন প্রতিনিয়ত কাজ করছে। নতুন চার সদস্য যুক্ত হওয়ায় কাজের প্রশাসনিক গতি বহুগুণে বেড়ে যাবে। বিশেষ করে মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে একাধিক ভাইভা বোর্ড একসাথে চালনা করা, খাতা মূল্যায়নের গতি তদারকি করা এবং নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা আগের চেয়ে অনেক সহজ হবে। এর ফলে সরকারি চাকরির আশায় থাকা দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার ইতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য