খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং বিপণন সংক্রান্ত এই খসড়া নীতিমালা নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের বিশেষ অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।
শনিবার (৮ আগস্ট) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য এবং সরকারের অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর মূল লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা তৈরি করা। জরুরি ও সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের নিজস্ব অবকাঠামো, মূলধন ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশের সার্বিক জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
জ্বালানি বিভাগ থেকে আরও জানানো হয়েছে, নীতিমালাটি বর্তমানে প্রাথমিক খসড়া ও প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এটি চূড়ান্ত করার আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থ রক্ষা, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করা, বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা বহাল রাখা এবং পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরেই কেবল এই নীতিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন বিবেচনা করা হবে। তাই খসড়া অবস্থায় কোনো পক্ষের স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ থাকার তথ্যটি বিভ্রান্তিকর।
সম্প্রতি প্রস্তাবিত এই নীতিমালাটি নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুমাননির্ভর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে এবং দেশীয় জ্বালানি খাতের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট সব মহলকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক আচরণের আহ্বান জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই প্রাথমিক ও পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির বড় অংশ সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। শিল্পকারখানা ও পরিবহন খাতের ক্রমাগত সম্প্রসারণের কারণে দেশে জ্বালানির চাহিদা প্রতি বছর লাফিয়ে বাড়ছে। এ অবস্থায় সরকারি অর্থায়নের ওপর চাপ কমাতে এবং বেসরকারি খাতকে বিশ্বমানের আধুনিক প্রযুক্তিসহ যুক্ত করতেই নীতিমালাটির খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নীতিমালায় কঠোর শর্ত ও তদারকি বহাল থাকলে বাজার প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে গুণগত মানসম্পন্ন জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
মন্তব্য