খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৫০ পিএম
উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু বগুড়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রায় ৪০০ একর জমির ওপর একটি নতুন বিসিক শিল্পপার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার সকাল ১১টায় বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত থেকে বগুড়ার সার্বিক বৈষম্য দূর করে শিল্প, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকারি জরিপে দেখা গেছে বগুড়ায় শিল্পায়নের ব্যাপক সম্ভাবনা ও বিশাল বাজার থাকলেও বিগত দুই দশকে কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বগুড়ায় উৎপাদিত কৃষিজাত ও শিল্পপণ্য প্রতি বছর প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরি করে দেশ-বিদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং বিগত সময়ের উন্নয়ন ঘাটতি পূরণ করে ন্যায্যতার ভিত্তিতে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে সরকার এই বিসিক শিল্পপার্ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। বগুড়ার পরিশ্রমী উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের অবদানকে জাতীয় অর্থনীতিতে যথাযথ মূল্যায়ন করার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে বগুড়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হিসেবে বগুড়া দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র গঠনে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। তাই এই অঞ্চলের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়াকে কেন্দ্র করে গৃহীত বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি তুলে ধরেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি রেলপথ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বগুড়া বিমানবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল শুরুর জোর প্রচেষ্টা চলছে। শহরের তীব্র যানজট নিরসনে রেললাইনের ওপর কয়েকটি ওভারপাস নির্মাণ এবং আগামী মাস থেকেই প্রযুক্তিভিত্তিক ড্রোন তৈরির কারখানার কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উন্নয়ন ভাবনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারাও উত্তরবঙ্গের এই প্রাচীন শহরের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৪০০ একর জমির বিসিক শিল্পপার্ক ছাড়াও রয়েছে বগুড়ায় একটি আধুনিক বহুমাত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, পৃথক বগুড়া সড়ক জোন তৈরি, আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়াম ও ক্রীড়াগ্রাম নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক করতোয়া নদীর স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনতে পুনর্জীবন প্রকল্প। এসব বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বগুড়াসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত সভাপতি আতিকুর রহমান বাদলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন জাতীয় সংসদ সদস্য, বিসিক চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ। মেগা প্রকল্পগুলোর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা পেয়ে ঝিমিয়ে পড়া শিল্পখাতে নতুন প্রাণ সঞ্চার হবে বলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য