খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৩:২১ পিএম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মিশুকচালক ওয়ালি উল্লাহকে (২০) হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে মিশুক ভাড়া নিয়ে নির্জন এলাকায় গিয়ে চালককে হত্যা করে তাঁর গাড়ি ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তার দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া মিশুক ও নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই অসুস্থ বাবার পরিবর্তে মিশুক চালাতে বের হন ওয়ালি উল্লাহ। সেদিন তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ পান। পরে ৬ জুলাই সোনারগাঁ থানায় তাঁর নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
একই দিন আড়াইহাজার উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের গ্রুপদী গ্রামের একটি নির্জন স্থান থেকে ওয়ালি উল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিহতের বাবা হারুন রশিদ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্তে নেমে পিবিআই বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং মিশুকটি চলাচল করা বিভিন্ন রুট বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। ধারাবাহিক তদন্তের একপর্যায়ে গত ২ আগস্ট সোনারগাঁ এলাকা থেকে আওলাদ হোসেন (২৬) ও শাহিন (৩১) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট শাহিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ওয়ালি উল্লাহর ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইল ফোন এবং একটি বাংলালিংক সিম উদ্ধার করা হয়। এরপর ৭ আগস্ট মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া মিশুকটিও উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই আসামিসহ চার থেকে পাঁচ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। চক্রটি নারায়ণগঞ্জের বারদী অটোস্ট্যান্ড থেকে পরিকল্পিতভাবে ওয়ালি উল্লাহর মিশুক ভাড়া করে। পরে তারা আড়াইহাজারের সুলতানশাদী বাজারের দিকে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে গ্রুপদী গ্রামের একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে চালক ওয়ালি উল্লাহকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর চক্রের সদস্যরা তাঁর মিশুক ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ছিনতাই করা মিশুকটি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলার তদন্তে আরও অগ্রগতি আসে শাহিনের জবানবন্দির মাধ্যমে। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত ৮ আগস্ট তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, নিহতের মিশুক ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের মাধ্যমে মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার হয়েছে। তবে চক্রটির বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে।
মন্তব্য