খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কয়েকটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ভাঙচুরের ঘটনায় চরম থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং প্রশাসনিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে ৪টি হলের ৪২ জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রোববার (৯ আগস্ট) নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট হলগুলোর লিখিত অভিযোগ এবং ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনরত প্রক্টরিয়াল বডির পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে এই ৪২ জনকে চিহ্নিত করে শোকজ করা হয়েছে। নোটিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে প্রক্টর কার্যালয়ে এসে নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার শিকড় অনুসন্ধানে জানা যায়, গত জুলাই মাসের শেষদিক থেকে দফায় দফায় অশান্ত হয়ে ওঠে বাকৃবি ক্যাম্পাস। গত ২৩ ও ২৪ জুলাই তুচ্ছ ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি শুরু হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর আগস্টের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ১ আগস্ট রাতে আবারো সংঘর্ষে জড়ায় সোহরাওয়ার্দী হল ও ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা, যেখানে আহত হন আরও ৫ জন। ধারাবাহিকভাবে ২ আগস্ট রাতে উক্ত চার হলের শিক্ষার্থীরা আবারও পৃথক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
টানা কয়েক দিনের এই সহিংসতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হলের প্রধান ফটক, জানালার কাচ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও বৈদ্যুতিক বাতিসহ ক্যাম্পাসের বিপুল সামাজিক ও বস্তুগত সম্পদ ভাঙচুর করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে ও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রক্টর ড. আব্দুল আলীম আরও স্পষ্ট করেন, এই শোকজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো নির্দোষ শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হবেন না। লিখিত জবাবে কেউ যদি ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অভাব প্রমাণ করতে পারেন, তবে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও শোকজের জবাব পর্যালোচনার পর যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিময় পরিবেশ বিনষ্টে দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তদন্ত কমিটির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তাদের প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য