বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আর কখনোই তার যুদ্ধপূর্ব কিংবা আগের স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে যাবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির (জাতীয় সংসদ) উপ-স্পিকার আলী নিকজাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছেন। ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘মেহের নিউজ এজেন্সি’-র এক প্রতিবেদনে এই খবরের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইরানের জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় আলী নিকজাদ এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের দিনগুলোতে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান তার আগ্রাসী ও বিভ্রান্ত শত্রুপক্ষকে এই সত্যটি স্পষ্টভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত সমীকরণ বদলে গেছে এবং এটি আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। তবে সেই সময়ে শত্রুভাবাপন্ন শক্তিগুলো বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।
বক্তব্যে সামরিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে পার্লামেন্টের উপ-স্পিকার বলেন, সময়ের পরিক্রমা হলো যেকোনো বিভ্রান্ত সত্তার জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষক। বর্তমান সময়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্ত অবস্থান ও প্রহরার কারণে সামরিক হিসাব-নিকাশ অনেকটাই পাল্টে গেছে। এই অভিজ্ঞতার মুখে পড়ে আমেরিকান ও জায়নবাদী শত্রুশক্তি কার্যত এখন উপলব্ধি করতে পেরেছে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা কিংবা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সামরিক সমাধান কাজ করবে না। ফলে এই অঞ্চলে গড়ে ওঠা নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার বাস্তবতা তাদের মেনে নিতে হচ্ছে।
ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবাহিত খনিজ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বিশাল অংশ এই সরু প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। দীর্ঘ দিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সাথে তেহরানের বৈরী সম্পর্কের কারণে এই স্ট্র্যাটেজিক রুটটি বৈশ্বিক সংবাদের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। ফলে ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নতুন ব্যবস্থার বিষয়ে দেওয়া বার্তা কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সামরিক অবস্থানের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকেও আলোকপাত করেন আলী নিকজাদ। তিনি জানান, কৌশলগত এই জয়ের পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো শক্ত হাতে মোকাবিলা করা। বৈশ্বিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ সংকটের ফলে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক জটিলতা দ্রুত কমিয়ে আনাই এখন তেহরানের মূল প্রশাসনিক লক্ষ্য।
মন্তব্য