খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ৯:২২ পিএম
সন্তানের হঠাৎ অসুস্থতা ও প্রথম জন্মদিনের কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি আলোচিত চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি। এর ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা বহুল আলোচিত মামলাটিতে পরীমনির বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে গেছে। শুনানি শেষে আদালত আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক রবিউল আলমের এজলাসে এই মামলার নতুন করে অভিযোগ গঠনবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে অভিযুক্ত চিত্রনায়িকা পরীমনি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর পক্ষে সময়ের আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী।
আদালতে পেশ করা সেই সময়ের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরীমনির শিশুসন্তানকে সম্প্রতি টিকা দেওয়ার পর থেকেই সে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছে। এছাড়া কাকতালীয়ভাবে এদিন তাঁর সন্তানের প্রথম জন্মদিনও ছিল। এমন পারিবারিক ও স্পর্শকাতর কারণে এই মুহূর্তে পরীমনির পক্ষে আদালতে হাজিরা দেওয়া সম্ভব হয়নি। শুনানি শেষে বিচারক আইনজীবীদের যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে আবেদনের সাড়া দেন এবং শুনানির দিন পেছানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে পরীমনির আইনজীবী বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথিপত্র ও পুরোনো ঘটনার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০২১ সালে। ওই বছরের জুন মাসে বোট ক্লাবে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন পরীমনি। ঠিক এর কিছুদিন পরেই, অর্থাৎ ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে পরীমনির বনানীর বাসায় হঠাৎ আকস্মিক অভিযান চালায় এলিট ফোর্স র্যাব। সেই অভিযানে বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও নানা ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
অভিযানের পর একই বছরের ৪ অক্টোবর সিআইডির পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাজী গোলাম মোস্তফা পরিমনি, তাঁর ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দিপু এবং আত্মীয় (খালু) কবীর হোসেন হাওলাদারকে অভিযুক্ত করে মোট তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। পরে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত পরীমনিসহ ওই তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে অভিযোগ গঠন করেন।
অভিযোগ গঠনের সময়ই মামলার মূল বাদী, র্যাব-১-এর কর্মকর্তা মজিবর রহমান আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেছিলেন। তবে পরীমনি তাঁর বিরুদ্ধে করা এই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও মামলাটি বাতিলের দাবিতে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) একটি আবেদন দায়ের করেন। ২০২২ সালের ১ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করে পরীমনির অংশটির ওপর তিন মাসের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। দীর্ঘদিন উচ্চ আদালতে স্থগিত থাকার পর সম্প্রতি সেখান থেকে মামলার বিচারকাজ স্বাভাবিক নিয়মে পুনরায় শুরুর ও নতুন করে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
মন্তব্য