খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র বেইলি রোডের একটি বাসা থেকে জেবা আদিবা (৩১) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বেইলি রোডের কেএফসি গলির একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পেশায় তিনি একজন পরিচিত নেইল আর্টিস্ট ছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোমবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে দ্রুত তারা বেইলি রোডের সেই ফ্ল্যাটে পৌঁছান। ঘরের ভেতরে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় তরুণীর লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে সোমবার সন্ধ্যায় লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, জেবা আদিবা বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র পারিবারিক ও মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন। সকালে তিনি প্রথমে ঘরে থাকা ইঁদুর মারার বিষ পান করেন এবং পরে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, জেবা আদিবার এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। আগের সংসার বিচ্ছেদের পর তিনি তনয় নামের এক ব্যক্তির সাথে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবন খুব একটা সুখের ছিল না। স্বামীকে নানা বিষয়ে সন্দেহ করা নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়ই তীব্র বচসা ও ঝগড়া হতো। এই দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক অমিল ও তীব্র সন্দেহপ্রবণতার কারণে জেবা মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজুর রহমান আরও জানান, পারিবারিক অশান্তি ও হতাশার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে মনে হলেও এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা উসকানি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং বিস্তারিত তদন্ত শেষ হলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত জেবা আদিবার বাবার নাম আবুল আহসান। তাঁদের স্থায়ী নিবাস রাজধানীর হাতিরঝিল থানা এলাকার নিউ ইস্কাটন রোডে। একজন পেশাদার নেইল আর্টিস্ট হিসেবে পরিচিত এই তরুণীর এমন অকাল ও করুণ মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ নিহতের পরিবার ও স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনছে।
মন্তব্য