খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৩২ পিএম
ভারতীয় ক্রিকেটে প্রতিভাবান তরুণের অভাব কখনোই ছিল না। তবে বৈভব সূর্যবংশীর উত্থানের গতি যে আলাদা, তা নিয়ে এখন আর সংশয়ের অবকাশ নেই। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের জার্সি গায়ে তুলে নিয়ে তিনি যেমন ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন, তেমনি মাঠের পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক জগতেও।
অল্প বয়সে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে আসার পাশাপাশি বৈভব এখন বড় বড় ব্র্যান্ডের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে নজরকাড়া ব্যাটিংয়ের পর থেকেই তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে এসেছে। এরই মধ্যে অন্তত পাঁচটি বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে তার চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈভবের বাণিজ্যিক মূল্য কতটা বেড়েছে, তার একটি ধারণা পাওয়া যায় এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তির অঙ্ক থেকেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে একটি ব্র্যান্ড চুক্তির জন্য তিনি এক কোটি রুপির বেশি পারিশ্রমিক দাবি করছেন। তবে এসব চুক্তির সুনির্দিষ্ট আর্থিক শর্ত সব ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তার মোট সম্পদের যে হিসাব বিভিন্ন জায়গায় উঠে এসেছে, সেটিকে আনুমানিক হিসাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বৈভব সূর্যবংশীর মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৭ থেকে ১০ কোটি রুপি। তার আয়ের সম্ভাব্য উৎসের মধ্যে রয়েছে আইপিএলের পারিশ্রমিক, ম্যাচ ফি, ঘরোয়া ক্রিকেটের আয় এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে করা বাণিজ্যিক চুক্তি। বয়স বিবেচনায় এই আর্থিক সাফল্য নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী।
বৈভবের সঙ্গে চুক্তি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে ক্রিকেট সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসএস। সারিন স্পোর্টসের এই ব্র্যান্ডের সঙ্গে তার বার্ষিক প্রায় ৫০ লাখ রুপির সরঞ্জাম চুক্তির কথা জানা গেছে। শুধু স্পনসরশিপেই থেমে থাকেনি প্রতিষ্ঠানটি; বৈভবকে ঘিরে বিশেষ সংস্করণের ব্যাটও বাজারে আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুষ্টি পানীয় ব্র্যান্ড কমপ্ল্যানও তরুণ এই ক্রিকেটারকে তাদের প্রচারণায় যুক্ত করেছে। কৈশোরে একজন ক্রীড়াবিদের পুষ্টি, শৃঙ্খলা ও অনুশীলনের বিষয়গুলোকে সামনে রেখে বৈভবকে ব্র্যান্ডটির প্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠান গুগলের অর্থ লেনদেনসেবা গুগল পের প্রচারণাতেও বৈভবকে দেখা গেছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ অর্থ ব্যবহারের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রচারণায় তার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানো হয়েছে।
এ ছাড়া শক্তিবর্ধক পানীয় ব্র্যান্ড রেড বুলের সঙ্গেও বৈভবের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আইপিএলের সময় রাজস্থান রয়্যালসের সতীর্থ ধ্রুব জুরেলের সঙ্গে রেড বুলের একটি প্রচারণামূলক চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ৩০ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে নিজের ব্যাটিং দক্ষতার পাশাপাশি প্রচারণাটিকেও আলোচনায় আনেন এই তরুণ।
বৈভবের বাণিজ্যিক পরিচিতি শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নেই। তরুণদের স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের প্রতি উৎসাহিত করতে ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত মে মাসে তাকে তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এত অল্প বয়সে বিপুল জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বৈভবের পরিবারও সতর্ক। কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অতিরিক্ত প্রচার, বিজ্ঞাপন ও বাণিজ্যিক ব্যস্ততা যেন তার ক্রিকেট অনুশীলন ও মানসিক বিকাশে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে বিষয়টি পরিবার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
বৈভবের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই প্রত্যাশার চাপ সামলে ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। ১৫ বছর বয়সে যে দরজা তার সামনে খুলেছে, সেটি কত দূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন তিনি, তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে শুরুতেই যে তারকা খ্যাতি ও বাণিজ্যিক আকর্ষণ তৈরি হয়েছে, তাতে ভারতীয় ক্রিকেটের এই কিশোর প্রতিভাকে ঘিরে ভবিষ্যতের প্রত্যাশা ইতোমধ্যেই অনেক বেড়ে গেছে।
মন্তব্য