ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সামনে থেকে এক নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। গভীর রাতে খাবার খাওয়ানোর কথা বলে তাকে হাসপাতাল এলাকা থেকে দূরে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে জানা গেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন বেল্লাল সিকদার ও নাসির। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে।
পুলিশ ও ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের সামনের করিডোরে অবস্থান করছিলেন ওই নারী। ঠিক সে সময় আসামিরা তাকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে বাইরে ডেকে নিয়ে আসে। সরল বিশ্বাসে বাইরে আসার পর তাকে জোরপূর্বক একটি মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত ও নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একাধিক ব্যক্তি তাকে পালাক্রমে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে।
ভোরের দিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় তিনি কোনোমতে সদর হাসপাতালে ফিরে আসেন। হাসপাতালের ট্রলি ও বারান্দায় কান্নাকাটিতে ভেঙে পড়লে বিষয়টি সেখানকার কর্মকর্তা ও দায়িত্বরত কর্মীদের নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওয়ার্ডে ভর্তির ব্যবস্থা করে এবং দ্রুত ঝালকাঠি সদর থানায় খবর পাঠায়।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুম ইফতেখার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালের কোনো নিবন্ধিত বা নিয়মিত রোগী ছিলেন না। রাতে চিকিৎসাধীন এক স্বজনের পাশে কিংবা আশ্রয়ের খোঁজে তিনি সেখানে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিবিড় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মূল আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরার সব ফুটেজ পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ পেয়ে ভোররাতেই সদর থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টিম হাসপাতালে পৌঁছে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। ঝালকাঠি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং ভুক্তভোগী নারীর দ্রুত শারীরিক পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য ও বর্ণনার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বেল্লাল ও নাসির নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই পাশবিক ঘটনার পেছনে আর কেউ ইন্ধন জুগিয়েছিল কি না বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত চলছে। মামলা দায়েরসহ আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য