খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৬:৪৩ পিএম
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ডাম্প ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার বানিয়াচো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন বালুবাহী ডাম্প ট্রাকের চালক আবদুল ওহাব (৪০), যাত্রীবাহী বাসের চালক কামাল (৩৫) এবং বাসের সহকারী শোভন (৩০)। তাঁদের মধ্যে কামালের বাড়ি গাইবান্ধায়, শোভনের বাড়ি বাগেরহাটে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকালে কুমিল্লার দিকে যাচ্ছিল একটি বালুবাহী ডাম্প ট্রাক। বিপরীত দিক থেকে দিনাজপুর থেকে হাজীগঞ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিল আল-আরাফা পরিবহনের একটি বাস। বানিয়াচো এলাকায় পৌঁছালে দুই যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা কয়েকজন যাত্রী আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে উদ্ধারকাজ চালিয়ে তারা বাস ও ডাম্প ট্রাক থেকে হতাহতদের বের করে আনে। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে অধিকাংশকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত তিনজনকে প্রথমে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। পরে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা আকলিমা জাহান বলেন, দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজনের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাঁদের অবস্থা নাজুক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। সে কারণে গুরুতর আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, নিহত তিনজনের মরদেহ থানায় নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাস ও ডাম্প ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় গতি নিয়ন্ত্রণ, বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের দূরত্ব বজায় রাখা এবং চালকদের সতর্কতা সড়ক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস ও ভারী পণ্যবাহী যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় ও স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়াসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
মন্তব্য