খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৬:৫০ পিএম
হাসপাতালে সেবার নামে অনিয়মের কারণে
বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা, অপচয় হচ্ছে সরকারি অর্থ।
রোগীকে জিম্মি করে কমিশন খাচ্ছে
ডাঃ মোহাঃ ফিরোজ জামান
তত্ত্বাবধায়ক
অত্র হাসপাতালে সরকারের প্রায় ১২ (বারো) কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে হাসপাতালের প্রায় ৮০% অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ হওয়ার কথা এবং অবশিষ্ট ২০% অক্সিজেন সরবরাহ করার কথা ইসপেক্টা কোম্পানির।
প্ল্যান্টটি স্থাপনের মাত্র ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে অচল হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘদিন ধরে মেরামত করা হয়নি। এর ফলে হাসপাতালের ১০০% অক্সিজেন ইসপেক্টা কোম্পানির কাছ থেকে কিনে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
এর ফলে সরকারের প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। ইসপেক্টা থেকে কমিশন নিচ্ছেন তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ জামান।
দ্বিতীয়ত, অভিযোগ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সিন্ডিকেটের কারণে ল্যাবরেটরির অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি অচল দেখিয়ে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে।
তৃতীয়ত, অভিযোগ হাসপাতালের প্রায় ৮০% এসির শুধু বাইরের কভার রয়েছে ভেতরের যন্ত্রাংশ নেই। অথচ প্রতি বছর এসি ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতির মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের নামে বিল উত্তোলন করা হচ্ছে।
চতুর্থত, হাসপাতালে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর রয়েছে, যার মাধ্যমে পুরো হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব। কিন্তু সেটিও দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে এবং মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি অন্যদিকে, প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের বিল করা হচ্ছে। জেনারেটর না চালিয়ে এক বছরে ৫০ লাখ টাকা তেলের বিল করা হয়েছে এবং পুরো টাকাই পকেটে।
এছাড়া আরও দুটি জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে থাকলেও এখনো সেগুলো স্থাপন করা হয়নি।
পঞ্চমত, অভিযোগ খাদ্য ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে নামমাত্র খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ করা হলেও সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
ষষ্ঠত, অভিযোগ হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ১৫–২০ জন বহিরাগত ব্যক্তি কাজ করছেন। ফলে রোগীদের বিভিন্ন সেবা পেতে তাদের কাছে অর্থ প্রদান করতে হচ্ছে।
মন্তব্য