খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
রাঙামাটিতে ঢাকা থেকে আসামি ধরতে গিয়ে এক সাংবাদিককেও তুলে নিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিরুদ্ধে। জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘ডিবিসি নিউজ’-এর রাঙামাটি প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরী ও স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতাকে একসাথে আটক করে সাদা একটি মাইক্রোবাসে তুলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে। রাঙামাটি শহরের জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে হঠাৎ সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালান। আকস্মিক এই অভিযানে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাদা পোশাকে অভিযান চালানো দলটি ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটির জেলা পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় দায়ের হওয়া সাইবার নিরাপত্তা আইনের এক মামলায় আসামি রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমনকে ধরতে ঢাকা থেকে ডিবির একটি বিশেষ টিম রাঙামাটিতে অভিযানে যায়। দুপুরে জেলা পরিষদ এলাকায় সুমনকে গ্রেপ্তার করতে গেলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর সাথে ডিবি সদস্যদের তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা সুমন এবং সাংবাদিক সৈকত—উভয়কেই জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
আটকের বিষয়ে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঢাকায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা রয়েছে। সেই মামলার পেক্ষাপটেই তাঁকে ঢাকা থেকে আসা ডিবি পুলিশের দল গ্রেপ্তার করেছে।
ডিবি সদস্যদের বহনকারী যানটি ইতিমধ্যেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। তবে একজন পেশাদার সাংবাদিককে দিনে-দুপুরে কর্মস্থল এলাকা থেকে এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে পার্বত্য জেলাটির সাংবাদিক সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বজন ও সহকর্মীরা আইনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
মন্তব্য